বিশ্বাস প্রমাণ এবং ঈমান

Hadith-Top20170427125954

ইদানীং মুমিনরা একটা কথা প্রায়ই ছুড়ে দেয়। আপনার বাবা যে আপনার বাবা সেটা কি আপনি বিশ্বাস করেন? অর্থাৎ তারা বুঝাতে চায় যে আমি যেহেতু আমার বাবা কে প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করি তাই আমি মুমিনের মতোই মূর্খ।

আবার অনেকেই প্রশ্ন করে আপনি তো জ্ঞান বুদ্ধি, আবেগ, এগুলো দেখতে পান না, তাহলে কি এগুলোর অস্তিত্ব নেই?

ঘুরে ফিরে তাদের একই কথা। তারা বলতে চায় শুধু তারা একারাই অন্ধ বিশ্বাসী নয়, আমরাও কোন কোন বিষয়ে অন্ধ বিশ্বাসী।

আসলে বিষয় টা সেরকম নয়। আপনারা যারা ডি এন এ টেস্ট দিয়ে প্রমাণের কথা বলেন, তাদের বলছি, আমাদের সে পর্যন্ত যাওয়ার ও প্রয়োজন নেই। আগে বিশ্বাস বলতে কি বুঝায়, বিশ্বাস, প্রমাণ এবং ঈমান এই শব্দ গুলো দ্বারা আমরা কি বুঝি এবং কিভাবে আমরা আলাদা করি সেটা আগে বুঝতে হবে।

ধর্মের বিশ্বাস হল প্রমাণ ছাড়াই অন্ধ বিশ্বাস। এটাই ঈমান। এখানে কোন প্রশ্নের অবকাশ নেই। এই ঈমানের উৎস আসলে আমাদের ছোট বেলার শিক্ষা। যখন বাবা মা বা দাদা দাদি আমাদের শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ্‌ এক। আল্লাহ্‌ সব আইকে সৃষ্টি করেছেন এবং কোরান নাজিল করেছেন মোহাম্মাদের কাছে ওহি পাঠিয়ে। এটা বিশ্বাস করাই অন্ধ বিশ্বাস বা ঈমান। এখানে কোন প্রমাণ চাওয়া যাবেনা, বা প্রশ্ন করা যাবেনা। প্রশ্ন করলেই আপনার বাবা অথবা আপনার বুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করে।

প্রথমে দেখুন প্রমাণ বলতে আমরা কি বুঝি। আসলে প্রমাণের জন্য দেখার কোন প্রয়োজন নেই । আমরা অনেক কিছুই না দেখে বিশ্বাস করি। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে যেটা সত্য হওয়া সম্ভব সেটাই। কেউ বলে না যে আমার বিশ্বাস সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। এটা আমরা জানি। আর যেটা আমরা জানি সেটা আমাদের বিশ্বাস নয়।

আবার বিজ্ঞানের যে সব সূত্র আছে সেগুলোও আমরা অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি বিজ্ঞানীদের উপর। এটা একটা আস্থা। আমরা জানি বিজ্ঞানীরা কাজ করে। তাদের কাজের ফলাফল প্রকাশ করে। তারা কোন কিছুই আমাদের বিশ্বাস করতে বলে না।

আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখতে পাই সবই বিজ্ঞানের অবদান। বিজ্ঞান ছাড়া আমাদের আধুনিক জীবন অচল। তবে বিজ্ঞানীরা সেই আস্থা অর্জন করে নিয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যায় কারণ তার সেই ডিগ্রী আছে যেটা একটি বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে দেওয়া হয়েছে। আমরা বাড়ি বানাতে একজন ডিগ্রী ধারি ইঞ্জিনিয়ারের কাছে যাই। বাড়ির ডিজাইন করতে একজন ডিগ্রী ধারি আর্কিটেক্টের কাছে যাই। কিন্তু কোনদিন কোন স্বপ্নে প্রাপ্ত বা ওহি নাজিল হওয়া মানুষের কাছে যাই না।

বিজ্ঞানের সব সূত্র গুলো কোন না কোন বৈজ্ঞানিক কমিউনিটি থেকে peer review হয়ে আসে। বিজ্ঞান কোন ব্যক্তিগত মতামত নয়। এটা প্রতিটি বিষয়ের এক্সপার্টদের মতামত। বিজ্ঞান কোন চূড়ান্ত ফলাফল বা অন্ধ বিশ্বাস নয়।

আমরা অন্ধ বিশ্বাসে বিশ্বাসী নই। আমাদের বিশ্বাস কোন একটি যুক্তির বা তথ্যের উপর নির্ভরশীল যেটা সত্য হওয়া সম্ভব। যেমন আমাদের বাবা যে আমাদের আসল বাবা সেটা ডি এন এ টেস্টের প্রয়োজন নেই। সেটা আমার বাবার দায়িত্ব পালন এবং তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

এখন কেউ বলবেন যে আপনার বাবা তো আপনাকে পেলে থাকতে পারে অর্থাৎ কেউ যদি আপনাকে দত্তক নেয়, এবং বাবার দায়িত্ব পালন করে তবে আপনি কিভাবে জানবেন যে সে আপনার আসল বাবা?

না, আসলে আমি সেটা কেয়ার করিনা। কারণ আমার বাবা যে আমার আসল বাবা কি না সেটা কোন অলৌকিক দাবি নয়।

একটি অলৌকিক দাবির যে প্রমাণ দরকার আর একটি লৌকিক দাবি বিশ্বাস করার যে প্রমাণ লাগে সেটা এক নয়।

তবে মুমিনরা আরও এক ধাপ এগিয়ে। তারা বলে যে আপনার বাবা যে আপনার মায়ের সাথে সহবত করেছে সেটা তো আপনি দেখেন নি । তাহলে আপনি কেন বিশ্বাস করেন যে এটা ঘটেছে?

আমার বাবার যে আমার মায়ের সাথে বিয়ে হয়েছে সেটার সাক্ষী আছে, সেটার অনেক প্রমাণ আছে। এবং বিয়ে করলে যে সন্তান হবে সেটা সবাই জানে। এটা একটা বায়লজিকাল প্রসেস।

আরও বলে রাখি যে আমার বাবা আমার আসল বাবা কি না সেটা আমার জীবন ধারণে কোন প্রভাব ফেলে না যেটা আল্লাহ্‌র বিশ্বাস করে। এবং এই দাবি আমি ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে কোনদিন করিনা। আমার জীবন যাপন করার জন্য যতটুকু বিশ্বাস প্রয়োজন আমি ততটুকুই বিশ্বাস করি এবং সেটুকুর প্রমাণ আমার কাছে আছে।

আমার বুদ্ধি এবং বিবেক কি দেখা যায়? এই প্রশ্নে আপনি ব্রেন সিটি স্ক্যান করলে জানতে পারবেন। বুদ্ধির প্রয়োগ দেখা যায়। প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভব হয়। এবং এর প্রয়োগ দেখা যায় । এটাই প্রমাণ যে এগুলো আছে এবং এগুলো কোন অলৌকিক বিষয় নয়।

সুতরাং আমরা কোন কিছুই প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করিনা।

আরও পড়ুনঃ

Leave a comment