
অনেক ধার্মিকরা মনে করেন যে নাস্তিকরা সৎ মানবিক এবং নৈতিক হতে পারেনা। আর হবেই বা কেন? তাদের তো অদৃশ্য কোন সত্ত্বার কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ঠিক তার উল্টোটা। যে সব দেশে ধর্মের প্রভাব নেই বললেই চলে, সে সব দেশে অপরাধ অনেক কমে গেছে। জেল খানায় গেলে দেখা যায় নাস্তিক নেই, ধার্মিকরাই বেশি। সেটা যে দেশের জেল ই হোক। অনেক গুলো দেশের জেল খানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অপরাধীর অভাবে।
ধার্মিক রা যেটাকে সত্য এবং নৈতিক বলে দাবী করে সেটা হাজার হাজার বছর আগের নৈতিকতা যেটা এ যুগে অচল । সমাজ যেমন পরিবর্তনশীল, তেমনি মানুষের নৈতিকতার মানদণ্ড ও পরিবর্তন হয়। আমরা এখন ধর্মগ্রন্থের বর্ণিত নৈতিকতার চেয়ে এবং আদর্শ মানুষগুলোর থেকে অনেক এগিয়ে গেছি।
ধর্মগ্রন্থগুলোকে সত্য এবং নৈতিক বলে দাবী করা এবং প্রচার করা আসলে সব থেকে অসৎ কাজ। কোন সৎ মানুষ কেন ধর্মকে সত্য বলে প্রচার করতে যাবে? নিশ্চয়ই এর পিছতে তার অসৎ কোন উদ্দেশ্য আছে । মুসলিমরা তো এটা করে সয়াবের আসায়। কারণ তারা যদি অন্য মানুষকে মুস্লিমে রুপান্তরিত করতে পারে তবে আখেরাতে আরও বেশি পুরষ্কার পাবে।
কিন্তু কিছু মানুষ আছে এই ধর্মের লেবাসে মানুষ কে ধোঁকা দিয়ে ফয়দা লুটতে চায়। আমাদের দেশে ধর্মের নামে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া সব থেকে সহজ কাজ । এতে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা যায় আর কিছু অর্থ ও উপার্জন হয় । হোক সেটা তাবিজ, পানিপড়া অথবা অন্য কোন উপায়ে।
কিছু মানুষ আছে যারা বিশ্বাস করে যে মরার পর তাদের আত্না আবার পুনরায় উত্থিত হবে, এবং স্বর্গ বা নরকে চলে যাবে যদিও এখনো পর্যন্ত স্বর্গ বা নরকের অথবা পরকালের কোন প্রমাণ আমরা পাইনি। এটাকে সত্য বলে প্রচার করা কি মানুষকে ধোঁকা দেওয়া নয়?
আপনি নিজে যা খুশি তাই বিশ্বাস করতে পারেন । আপনি বিশ্বাস করতে পারেন চাঁদটি সবুজ রঙের পনির দিয়ে তৈরি। কিন্তু আপনি যদি আপনার অন্ধ বিশ্বাস কে কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়া প্রচার করতে থাকেন এবং অন্য মানুষকে সেটা বিশ্বাস করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন তাহলে সেটা অসৎ কাজ হবে । হোক সেটা আপনার নিজের সন্তান, বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের কেউ।
Pingback: বিশ্বাস প্রমাণ এবং ঈমান | সত্যের সন্ধানী