
হুজুর বয়ান দিচ্ছিলেনঃ বিশ্বের মুসলমানের সংখ্যা আড়াইশো কোটিরও বেশী।
মুসলমান এখন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাহশাল্লাহ। একসময় আসবে যখন মুসলমানরা সারা বিশ্ব দখল করে নিবে। তখন সবখানে ইসলাম কায়েম হবে। ইহুদি নাসারা, হিন্দুরা, সবাই মাথা নত করে ইসলামের পথে আসবে না হয় ইসলামি আইন মেনে চলতে হবে।
এমন সময় হুজুর কে প্রশ্ন করলাম – আচ্ছা তো এর মধ্যে তো শিয়ারাও আছে, তাই না?
হুজুর – আরে না না । শুধু কলেমা পড়লেই কি মুসলিম হয় নাকি? যারা নবিজীর স্ত্রী মা আয়শা (রঃ) কে অপবাদ দেয়, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েনা, সাহাবা এক্রামদের মানেনা, ছহিহ হাদিস মানেনা, তারা আবার মুসলিম নাকি?
হুম, তো আহলে হাদীসরা কি মুসলিম?
হুজুর – অনেকে নিজেকে আহলে হাদিস ভাবতে গর্ব বোধ করে আর ভাবে আমি ছাড়া বাকি সবাই হল গর্দভ। তারা বলছে কারো তাকলীদ করা যাবে না। তাকলীদ সর্বাবস্থায় হারাম ও শিরক ইত্যাদি। এছাড়াও যারা নাভির উপরে হাত বাধে, নামাজে আমিন জোরে বলে তারা কোন হুজুর মওলানা, আলেম মানেনা। তারা বেশির ভাগই বাচ্চা পুলাপান । এরা একেবারেই সঠিক পথে নেই।
আচ্ছা, তো মডারেট মুসলমানদের নিয়ে আপনার মতামত কি?
হুজুর – এরা সব ভণ্ড। ধরি মাছ, না ছুই পানি। আগেই বলেছি, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েনা, তারা মুসলমান নয়। তারা শুধু মুসলিম নাম ধারন করে রেখেছে কিন্তু কাজে কামে কোন ইসলামের ধার ধারেনা। তাদের নারীরা অবাধে বেপর্দা চলাচল করে, তারা নাচ গান বাজনা শুনে, মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি দেখে, ছবি তুলে, মদ খায়, জুয়া খেলে আর ইহুদি নাসারাদের স্টাইলে চলে। এরাই ইসলামের সব চেয়ে বড় শত্রু।
তো হুজুর সঠিক মাঝহাব কোনটা?
হুজুর বললেন বিশ্বের সবাই, যারা সঠিক কোরান এবং ছহিহ হাদিস মেনে চলে, হুজুরে পাক (সঃ) এর দেখানো পথ অনুসরণ করে, তারাই সাচ্চা মুসলিম। অনেকেই নিজেদের কে হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী প্রভৃতি হিসাবে পরিচয় দেয়। । এই নাম গুলি আল্লাহ বা মুহাম্মাদ (সা) এর দেওয়া নয় । মাযহাব তৈরিতে আল্লাহর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। এগুলো সবাই বিদাতি করছে। কেউ সঠিক মুসলিম নয়।
আচ্ছা তো সৌদিরা তো সঠিক মুসলিম তো, নাকি?
হুজুর বললেন ছি ছি। যারা হালাল নাইট ক্লাবে গিয়ে নাচা নাচি করে হালাল মদ খেয়ে হালাল পতিতালয়ে রাত কাঁটায়, তারা আবার মুসলিম নাকি? তারা তো আমেরিকার দালাল। সমস্ত মুসলিম বিশ্ব তাদের উপর ক্ষেপে আছে।
হুম। এমন অপবিত্র দেশে হজ্ব হবে কি না এ নিয়েও সন্দেহ আছে। আমি এবার আগের চেয়েও অনেক বেশি কনফিউসড