গণতন্ত্র হল জনসাধারণের প্রতিনিধি দ্বারা সাম্যের নীতি অনুসারে রাষ্ট্রশাসন করা।আর খেলাফতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা মানে হল আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। ইসলামে রাজ্য শাসন পদ্ধতি কি হবে তা নির্দিষ্ট। তা হল কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে রাজ্য পরিচালনা পদ্ধতি তথা ইসলামী খিলাফত পদ্ধতি।
ইসলামিক খিলাফত পদ্ধতিতে সরকার প্রধান নির্বাচন পদ্ধতি:
১. পূর্ববর্তী খলীফা কর্তৃক পরবর্তী খলীফার মনোনয়ন।
২. খলীফা তার পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের জন্য বিশেষ জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে দিয়ে যেতে পারেন
৩. খলীফা তাঁর পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বিষয়টি জনগণের উপর ছেড়ে দিতে পারেন।
গণতন্ত্রে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচনের পদ্ধতি মাত্র একটাই। সেটা হল সাধারণ নির্বাচন। জনগণ দ্বারা সরকার নির্বাচিত হয়ে আসে। এবং সরকার গঠন করে। গণতান্ত্রিক দেশে সরকার ব্যবস্থা বিভিন্ন রকম হতে পারে, তবে মৌলিক ভাবে সরকারের বিভিন্ন শাখায় আইন তৈরি, আইন প্রয়োগ এবং আলোচনার সুযোগ থাকে। গণতন্ত্র একটি আধুনিক চেক এন্ড ব্যাল্যান্স সিস্টেম।
ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের কোন মূল্য নেই শুধু মাত্র আল্লাহ্ ও রসুলের নির্ধারিত নীতি এবং শারিয়া আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা হয়।
ইসলাম অনেকটা গণতন্ত্র বিরোধী মতবাদ। কোরানের একটি আয়াত লক্ষ্য করেন সেখানে বলা হচ্ছেঃ
যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। (সূরা আন’আম-১১৬)
গণতন্ত্রে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয়। কিন্তু মুসলমানরা এটা মানতে রাজি নয়। তদের মতে আল্লাহ্ সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণকে আইনের উৎস মানা ঈমানর পরিপন্থী।
ইসলাম মতে আল্লাহ্ যাকে খুশি সম্মান দেন, যাকে খুশি ক্ষমতা দান করেন। এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন। (সুরা আলে ইমরান-২৬)
আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল কাফের। (সূরা মায়িদা-৪৪)
খিলাফত ব্যবস্থা কেন বিলুপ্ত ?
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙ্গে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তুর্কী খলিফাই পৃথিবীর সর্বশেষ শাসক যার পদবি ছিল খলিফা।
এখন পৃথিবীতে অনেকগুল মুসলিম দেশ আছে কিন্তু একটি দেশের শাসক কে ও খলিফা বলা হয় না। যেসব দেশে ইসলামিক আইন এবং শারিয়া আইন চালু আছে তারা অনেক পিছিয়ে এবং অমানবিক। যেমন ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ মেয়েদের কে রাস্তায় পেটায় শুধু পোশাকের কারণে। সৌদিতে বোরখা ছাড়া মেয়েদের বের হতে দেওয়া হয় না। চুরির জন্য হাত কেটে ফেলা হয় আর
সমকামিতার জন্য বা মদ্য পানের জন্য প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত কিংবা শিরচ্ছেদ মতো বর্বর শাস্তি গুলো চালু আছে।
যেহেতু খিলাফত ব্যবস্থায় জনগণের উপর কোন ক্ষমতা দেওয়া হয় নি, তাই এখানে চেক এন্ড ব্যালেন্স বলে কিছু নেই । একজন খলিফা যদি ক্ষমতায় থাকে, সে নির্ধারণ করে যায় তার পরবর্তী খলিফা কে হবে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কোন ব্যবস্থা নেই।
যেহেতু কোরানের আইন দিয়েই দেশ চলে, তাই আইন গুলো সেকেলে এবং এর ইন্টারপ্রিটেশন এবং প্রয়োগ নির্ভর করে শাসকদের উপর।
ইসলাম প্রধান রাষ্ট্র গুলোতে আলোচনার কোন স্থান নেই। কোরান হাদিস এবং শারিয়া আইন ই চূড়ান্ত । এটা যে কতোটা ভয়ংকর এবং আধুনিক সভ্যতার পরিপন্থী, তা একটু চিন্তা করলেই পাওয়া যাবে।
ধার্মিক রা মনে করেন গণতন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন করে “তীব্র প্রয়োজন হারামকে হালাল করে দেয়” কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে যেটা হালাল সেটা কি সব সময় ভালো আর যেটা হারাম সেটা কি খারাপ?
ইসলামের দৃষ্টিতে দাসী রাখা, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ হালাল। আবার সমকামিতা, গর্ভপাত, ইত্যাদি হারাম। কিন্তু আধুনিক সমাজে সমকামিতা, গর্ভপাত, ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে । ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কি এসব নিয়ে কোন আলোচনার সুযোগ আছে কি? কারণ কোরানে যেটা সুস্পষ্ট ভাবে নিষেধ করা আছে এবং যেটা মানবতার বিরুদ্ধে যায় সেটাকেই মেনে নিতে হবে। এ ব্যাপারে মুমিনদের যুক্তি হচ্ছে আল্লাহ্ যেটা জানেন সেটা তোমরা জাননা।