“লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” ধর্মে কোন জোর জবরদস্তী নেই

“তোমার ধর্ম তোমার কাছে আর আমারটা আমার”। মডারেট মুসলিমরা প্রায়ই  বলে থাকে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নেই। কোরানের ১০৯ নম্বর সূরা কাফিরুনের ৬ নম্বর আয়াতে ওই কথাই লেখা আছে। কোরানের ২ নম্বর সূরা আল বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে লেখা “ধর্মের ব্যাপারে কোন জোরজবরদস্তি নেই” ।

কিন্তু সুরা আল ইমরানের ১৯ থেকে আমরা পাই “নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।” (৩ঃ১৯) এবং

 ‘কেউ যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।’ (আল ইমরান, ৩ : ৮৫)

আমরা বাস্তবে কি দেখতে পাই? মুসলমান রা যে দেশে সংখ্যা লঘু বা সংখ্যায় কম আছে, যেমন ইউরোপ বা আমেরিকায়, সেখানে তারা সুন্দর ভাবে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে এবং তারা এই সব শান্তির বুলি আওড়ায়। কিন্তু তারা যখন সংখ্যা গুরু হয় তখন তারা অন্য কোন ধর্ম কে সহ্য করে না।


আসলে উপরের  “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” একটি মান্সুক বা রহিত সুরা। এটার পরিবর্তে যে সুরা টা নাজিল হয়েছে সেটা হল সূরা আল ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতঃ  নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। (৩ঃ১৯)


কোরানের বেশ কিছু ঘৃণা ভরা যুদ্ধের আয়াত আছে যা সরাসরি “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” বা ধর্মে কোন জোর জবরদস্তী নেই, সেটার বিপরীতে যায়। যেমন

“তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।” (৯ঃ২৯)

“খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।” (কোরান ৩ঃ১৫১)

এখানে কোরান হাসিসে বেশ কিছু আয়াতে বলা আছে যে অমুসলিম দের সাথে বন্ধুত্ব করোনা, তারা একে অপরের বন্ধু। তুমি যদি ইহুদি নাসারাদের সাথে বন্ধুত্ব কর, তবে হাশরের দিনে তুমি তাদের দলভুক্ত হবে। (কোরান ৫ঃ৫১)

খ্রীষ্টান, ইহুদি কাফেরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। ( কোরান ৯৮ঃ৬ ) “আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।”

যেসব মুমিন বিদেশে আছেন, তারা এটাই বিশ্বাস করে যে তারা বিদেশীদের চেয়ে উত্তম। তারা তাদের বাচ্চাদেরকেও সেভাবে বড় করে। তাদের বাচ্চারা যে স্কুলে যায়, সেখানকার স্কুলের বন্ধুদের এবং তাদের শিক্ষকদেরও জাহান্নামী মনে করে।

এবার আসুন সৌদিতে। তারা কি বিশ্বাস করে “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” বা দিনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তী নেই? একেবারেই না। কারণ তারা বিশ্বাস করে বিধর্মীরা তাদের দেশে থাকতে হলে অবশ্যই জিজিয়া কর দিয়ে থাকতে হবে। তারা বিশ্বাস করে যে পৃথিবীর সব মানুষকে মুসলিম বানাতে হবে । অন্য কোন ধর্মের মানুষ সৌদিতে গিয়ে কোন প্রকার প্রচার বা প্রসার করতে পারবে না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি সকল ধর্ম সহ অবস্থান করতে পারতো, তাহলে শুধু মুসলিমরা শুক্রবারে রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়তে পারতো না। শুধু তারাই এস্তেমার দিনে ব্যাপক সমাবেশ করতে পারে। তারা মাইক বাজিয়ে ওয়াজ করতে পারে, কিন্তু যদি কোন হিন্দু এর ১০ ভাগের এক ভাগও করতো, তাহলে দেখা যেত হুযুরদের মিছিল। হিন্দুরা যদি শুধু সন্ধ্যা বেলা উলু উল করে ধ্বনি দিত তাহলেই মোল্লারা সেটা সহ্য করতে পারতো না।

images-121548773203.jpg

2 thoughts on ““লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” ধর্মে কোন জোর জবরদস্তী নেই

  1. Pingback: ইসলাম শান্তির ধর্ম , কিন্তু মডারেট রা যেটা জানেনা | সত্যের পুজারি

  2. Pingback: ইসলাম শান্তির ধর্ম , কিন্তু মডারেট রা যেটা জানেনা | সত্যের সন্ধানী

Leave a comment