বিভিন্ন ধরনের যুক্তি (reasoning) এবং কুযুক্তি (Fallacy)

এই লেখাটি কিছু টা লজিকাল ফ্যালাসি নিয়ে কথা হবে। কিন্তু আজকে আমি কোন লজিকাল ফ্যালাসি সংজ্ঞা দিব না বি লিস্ট দিব না। কিন্তু আজকে আমি কিভাবে লজিকাল ফেলাসি চিনতে হয় এবং কিভাবে ব্যাবহার করতে হয়, বা লজিকাল ফ্যালাসি শিখলে আমাদের কি সুবিধা হবে সেটা নিয়ে আলোচনা করবো।

Syllogism হল দুটা প্রেমিস বা দুটা লাইন অফ ইনফরমেশন যা থেকে আমরা একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি। এখন যদি প্রেমিস গুলো সত্য হয় বা সঠিক হয় তবে সিদ্ধান্তটাও সঠিক হবে। এবং আর্গুমেন্ট টি ভ্যালিড হবে। যেমন ঃ

প্রেমিস ১ঃ সক্রেটিস একজন মানুষ

প্রেমিস ২ঃ মানুষ মাত্রই মরণশীল

সিদ্ধান্তঃ সক্রেটিস মরণশীল।

এখানে এটি একটি সাউন্ড আর্গুমেন্ট হতে পারে ।

আর্গুমেন্ট এর Structure এ ভুল থাকলে সেটা একটি Invalid Argment হয়ে যাবে এবং আমরা এর সিদ্ধান্ত বিচার না করেও বুঝতে পারবো যে আর্গুমেন্ট টি সত্য নয়।

যেমন এর কাছাকাছি একটি আর্গুমেন্ট এরকম হতে পারে

প্রেমিস ১ঃ সক্রেটিস মরণশীল

প্রেমিস ২ঃ মানুষ মাত্রই মরণশীল

সিদ্ধান্তঃ তাই সক্রেটিস একজন মানুষ ।

উপরের প্রেমিস গুলো দেখলে মনে হতে পারে যে এটি একটি সাউন্ড আর্গুমেন্ট। এর সিদ্ধান্ত টিও সঠিক, কিন্তু আসলে এটা সাউন্ড আর্গুমেন্ট নয়। এখানে একটি ভুল আছে । কারণ মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও মরণশীল, তাই শুধু মরণশীল হলেই সক্রেটিস যে মানুষ হবে এমন কোন কথা নেই। আমরা সক্রেটিস নামে একটা কুকুর পুষতে পারি, সেও মরণশীল হবে।

যারা লজিকাল ফ্যালাসি বোঝে, তাদেরকে যদি লজিকাল ফ্যালাসি ক্যাটাগরি উল্লেখ করে দেওয়া হয়, তাহলে তারা খুব সহজেই বুঝতে পারে যে তাদের আর্গুমেন্টে ভুলটা কোথায়, এবং তারা সহজেই তাদের আর্গুমেন্ট টি ঠিক করে নিতে পারে ।

যেমন একটি লজিকাল ফ্যালাসি হল তারা যদি কোন বিখ্যাত বেক্তির উক্তি দিয়ে দাবি করে যে এটা সত্য, তখন এটি একটি লজিকাল ফ্যালাসি হবে যার নাম Appeal to Authority. যারা এই ফ্যালাসি টি সম্বন্ধে জানেন, তাদেরকে শুধু নাম বললেই তারা খুব সহজেই বুঝে যাবেন যে তাদের ভুলটি কোথায় । আর যারা জানেন না তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে হয় যে কোন বিক্ষ্যাত ব্যক্তি কোন কিছু বললেই সেটা সত্য হয়ে যায় না।

এ ধরনের আরেকটি লজিকান ফেলাসি হল Argumentum ad populum বা জনপ্রিয়তার কুযুক্তি। কেউ যদি কোন একটি মতবাদ কতটা জনপ্রিয়, বা কতজন মানুষ বিশ্বাস করে তা দিয়ে সেটার সত্যতার বিচার করতে যায় তবে সেটা Argumentum ad populum fallacy হবে।

লজিকাল ফ্যালাসি কিন্তু বলেনা যে আপনার সিদ্ধান্ত সত্য কি মিথ্যা বা ভুল কিংবা শুদ্ধ । লজিক শুধু এটাই বলে যে আপনি যে পদ্ধতিতে বা যে যুক্তি প্রয়োগ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন সেটা সঠিক নয় ।

কিন্তু মানুষ অনেক সময় ভুল কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে লজিক প্রয়োগ করলে বুঝা যায় যে সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ভুল কারণে। যেমন মনে করেন কেউ পরীক্ষার আগের দিন আল্লাহ্‌র কাছে অনেক দোয়া চাইল । কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করে আল্লাহ্‌র উপর রাগ করে নাস্তিক হয়ে গেল । এখানে সে ভুল কারণে নাস্তিক হয়েছে, কারণ যদি আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব না থাকে তবে তার আল্লাহ্‌র উপর রাগ করে নাস্তিক হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। এখানে তার লজিকের ভুল ধরিয়ে দিলে সে বুঝতে পারবে যে সে আসলে প্রকৃত পক্ষে বুঝে নাস্তিক হয় নি।

আমরা আমাদের প্রতিটা আর্গুমেন্ট, বিশ্বাস এবং সিদ্ধান্ত (Reasoning.) যুক্তি সঙ্গত কিনা এবং সাউন্ড কি না, সেটা বুঝতে পারবো যদি আমাদের লজিকাল ফ্যালাসি গুলো জানা থাকে।

৭ রকমের যুক্তি (Reasoning) জেনে রাখা ভালো । বিস্তারিত পরের লেখায়।

🎲 Deductive Reasoning.

🎲 Inductive Reasoning.

🎲 Abductive Reasoning.

🎲 Backward Induction.

🎲 Critical Thinking.

🎲 Counterfactual Thinking.

🎲 Intuition.

Types-of-Reasoning-Deductive-and-Inductive

3 thoughts on “বিভিন্ন ধরনের যুক্তি (reasoning) এবং কুযুক্তি (Fallacy)

  1. Pingback: ফলস এনালজি, আর্গুমেন্ট ও এভিডেন্স | সত্যের পুজারি

  2. Pingback: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ যুক্তি খণ্ডন পর্ব -১ | সত্যের সন্ধানী

  3. Pingback: কোরানের মোজেজা উনিশ | Mathematical Miracle 19 in Quran | সত্যের সন্ধানী

Leave a comment