ভালো খারাপের মানদণ্ড এবং আসমানি কিতাব ও শয়তানের আয়াত

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মানুষ কেন আল্লাহ্‌ ভগবান বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তা বুঝতে পারছি না। আমি কোন আল্লাহ্‌ ভগবান বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কারণ বা যুক্তি এখন পর্যন্ত পেলাম না।

হয়তো আস্তিকরা বিশেষ কোন জ্ঞান বা যুক্তির খবর জানেন যেটা আমি জানিনা, এবং তাদের জিজ্ঞেস করলে সেই জ্ঞান বা যুক্তি শেয়ার করতেও তারা রাজি নন।

তারা শুধু বলেন কোরান হাদিস পড়েন, এটাই আল্লাহ্‌র কাছ থেকে নির্দেশ, জীবন বিঁধান। আল্লাহ্‌ আপনাকে হেদায়েত করবে। কিন্তু কোরান হাদিস তো জ্ঞানের উৎস কিছু পাই না । যদি কোরান বিজ্ঞানময় কিতাব হত, তাহলে মুমিনরাই সব থেকে জ্ঞানী হত। কিন্তু আমরা তো ঠিক তার বিপরীতটা দেখতে পাই।

মুমিনদের কাছে যুক্তি প্রমাণ চাইলে কিছু লেম যুক্তি পাওয়া যায় যেমন সৃষ্টি আছে এটাই স্রষ্টার প্রমাণ । অথবা “আপনি কি আপনার মা বাবার বিয়ে দেখেছেন?” ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো তো স্রষ্টার প্রমাণ হতে পারেনা।

আরেকটা জিনিষ যেটা মুমিনরা বলে সেটা হল – কোরান পড়ে দেখেন, এটাই আল্লাহ্‌র প্রমাণ। যদি বলি কোরান আল্লাহ্‌র বানী তার প্রমাণ কি? উত্তর আসে মোহাম্মাদ বলেছেন। যদি জিজ্ঞাসা করি মোহাম্মাদ যে আল্লাহ্‌র রসুল তার প্রমাণ কি? তখন উত্তর আসে আল্লাহ্‌ বলেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র প্রমাণ রসুল, রসুলের প্রমাণ আল্লাহ্‌।

আল্লাহ্‌ বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করার আসলে একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে পারিবারিক শিক্ষা। আমাদের দেশে এমন মানুষ খুব কমই আছে যারা চিন্তা ভাবনা করে, জেনে বুঝে, এবং কোরান হাদিস পড়ে তারপর মুসলমান হয়েছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মুসলিম ই মুসলমান হয়েছে কারণ তার বারা মা তাদের মুসলমান বানিয়েছেন। কোন দিন ছেলে মেয়েদের জিজ্ঞাসাও করেনি তোমরা ধর্মে বিশ্বাস কর কি না। তারা নিজেদের বিশ্বাসটাই তাদের ছেলে মেয়েয়ের উপর জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে। এবং ধর্ম না মানলে শাস্তি দিয়েছেন।

আমরা আমাদের মৌলিক শিক্ষা গুলো কিন্তু পরিবার থেকেই পাই । আপনার বাবা মা ই প্রথমে আপনাকে ভালো মন্দ, ন্যায় অন্যায় এবং মরালীটি শিক্ষা দিয়েছেন ।

বাবা মায়ের শিক্ষা নির্ভর করে তাদের নিজেদের শিক্ষার উপর, বিশ্বাসের উপর এবং সমাজের উপর। তারা নিজেরা যেটা জানে এবং বিশ্বাস করে সেটাই সন্তানদের শিক্ষা দেয়।

এর পর আমরা স্কুলে গিয়ে শিখি। স্কুলে গিয়ে অনেক লেখকদের বই ও পড়ি এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো মন্দ এবং ভালো মন্দের পিছনের যুক্তি গুলোও আমরা শিখি।

আমরা যত বড় হই, তত পুরানো ধ্যান ধারনা ফেলে দিয়ে নতুন মরালীটি গ্রহণ করে নেই, যেটা আগের থেকে ভালো । আমরা আমাদের অতীতের ভুল গুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি, নিজেদের কে শুধরে নিয়ে আরও উন্নত হচ্ছি, সভ্য হচ্ছি।

আমাদের সমাজে বাস করতে হলে সমাজের কিছু নীতিমালা অনুসরণ করা লাগে। আমরা হয়তো সব বিষয়ে একমত হতে পারিনা, কিন্তু এগুলো আমাদের একটি সুন্দর জীবনযাপন এবং পরস্পরের স্পেস এবং মতামত কে শ্রদ্ধা করে চলার জন্যই তৈরি হয়।

এখন প্রশ্ন আসে সমাজের রীতি গুলো যুক্তিসংগত কি না। দেশের আইন ও কোন কোন সময়ে অযৌক্তিক হতে পারে। কিন্তু কথা হচ্ছে দেশের আইন বা সামাজিক রীতি হলেই সেটা যে ভালো হবে, এমন কোন কথা নেই।

আমাদের দেখতে হবে কোন আইন মানবতা বিরোধী কি না । কারণ আইন মানুষের জন্যই। আইন যদি মানবতা বিরোধী হয়, তবে সেটার সমালোচনাও করতে হবে।

কোন আইন বা নীতি বই তে লেখা থাকলেই সেটা নির্ভুল এবং মানবিক হয়ে যায় না। আপনি যদি কোন কাজ কে যুক্তি দিয়ে সেটা কেন ভালো বা সেটা কেন খারাপ, যদি প্রমাণ করতে পারেন, তবে সেটার জন্য কোন কিতাবের প্রয়োজন হয় না।

উদাহরণ দেই, আপনি যদি বলেন চুরি করা খারাপ, সেটার পিছনে কি কোন যুক্তি আছে? নাকি সেটা শুধু কিতাবে লেখা আছে বলেই খারাপ? যদি যুক্তি থাকে, তবে সেটা কিতাবে আছে কি না সেটা দিয়ে কিছু যায় আসে না, কিন্তু কোন যুক্তি যদি না থাকে, তবে আপনি অন্ধের মতো কিতাব ফলো করছেন।

মানুষ কোন কাজই কিতাব দেখে করে না । মানুষ তার বিবেক এবং সমাজ দিয়ে বিচার করে। মনে করুন, প্রেম করা বা ছেলে মেয়ে বন্ধুত্ব করা কেন খারাপ? বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কই বা খারাপ কেন হবে? সমকামিতা এবং হস্ত মৈথুন কেন খারাপ? এটা কি আপনি যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারবেন? যদি না পারেন তো যারা এগুলো করছে তাদের আপনি বাধা দেবেন কেন?

আমাদের দেশে তো ছেলে মেয়েরা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়েও করতে পারেনা, সেখানে এই সমাজ কিছুতেই লিভ টুগেদার বা সমকামিতা কে মেনে নেবেনা। কিন্তু শিশু ধর্ষণ, বাল্য বিবাহ, দাসী সেক্স, বহু বিবাহ, এগুলোতে কোন আপত্তি নেই, কারণ নবীজি ও এগুলো করেছিলেন।

দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ, তা তারা ছেলে হোক, বা মেয়ে হোক, পরস্পরের সম্পর্ক করে, সম্মতিক্রমে সেক্স করলে সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি নাক গলাবে কেন? এটা তো তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার । এটা তে সমাজের বা মানবাধিকারের কোন ক্ষতি হয় না। তাই কে কার সাথে সেক্স করলো না করলো সেটা নিয়ে আমরা নাক গলাতে যাবো না। কিন্তু আমরা নাক গলাবো যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে ।

ধর্ষণ, দাসী সেক্স, শিশু সেক্স এবং বহু বিবাহ কেন খারাপ? এর কারণ হচ্ছে এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় । একজন মানুষকে ধর্ষণ করলে তার ব্যক্তি স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করা হয়। একটা শিশুর সম্মতি দেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকেনা। একজন মানুষকে দাস বা দাসী বানালে তার মৌলিক অধিকার গুলো হরণ করা হয়। বহু বিবাহের ফলে নারীর অধিকার এবং সম্মান খর্ব করা হয়।

কিন্তু কোন ধর্ষণ হলে মুমিনরা বলে কোন মুসলমান ধর্ষণ করতে পারেনা, কোন জঙ্গি হামলা হলে বলে মুসলমান জঙ্গি হয় না, জঙ্গিরা মুসলমান সাজে।

কিন্তু মুসলমান রা এটা শিখেই বড় হয় যে একজন নারীর মর্যাদা পুরুষের অর্ধেক। একজন নারী বেপর্দা রাস্তায় বের হয়ে যদি ধর্ষিতা হয় তো দোষ টা নারীর। স্বামী স্ত্রীকে মারধোর করতে পারবে, যখন খুশি তালাক দিতে পারবে এবং ইচ্ছা হলে একাধিক বিয়ে করতে পারবে।

কিন্তু আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে যে কিতাবটা আপনি আল্লাহ্‌র বানী বলে ভাবছেন সেটা আসলে শয়তানের বানী হতে পারে?

আপনি যদি এমন একজন মানুষ হন যে কিনা খুব সহজে একটি দল গঠন করে, মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে, এমন কিছু দাবি করেন যেগুলো মানুষের জানা নাই বা জানা সম্ভব নয়, এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে এবং যারা আপনার দলে ভিড়বে না, তাদের লুট পাট করার এবং অসংখ্য নারী ভোগ করার সুযোগ খুজেন, তাহলে আপনি এমন কাহিনীই ফেদে বসবেন যে আপনার কাছে অসিম ক্ষমতার উৎস আছে।

আপনি কিভাবে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে জিবরাইল আসলে ইবলিশ না? সে হয়তো সব উল্টা পাল্টা বলেছে আর নবীকে ধোঁকা দিয়েছে? কারণ নবী তো নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে শয়তান তাকে ধোঁকা দিয়ে নিজেই আয়াত নিয়ে এসেছিল। তো কোরানে কতটুকু শয়তানের বানী আছে সেটা তো আপনি জানেন না। আপনি যদি ভালো মন্দ যাচাই না করে অন্ধ বিশ্বাস করেন, তো এভাবেই ধোঁকা খেতে পারেন।

images (22)

Leave a comment