আকাশ কি কঠিন পদার্থ? কোরানের বৈজ্ঞানিক ভুল – ২

যারা বলেন যে কোরানে কোন বৈজ্ঞানিক ভুল নেই, কোরানের সাথে বিজ্ঞানের সাথে কোন সংঘর্ষ নেই অথবা কোরানে অমুক জিনিষ ১৪০০ বছর আগেই বলা ছিল, তাদের জবাবে অনেক গুলো লেখা অলরেডি লিখেছি কিন্তু মনে হচ্ছে তারা এগুলো পড়েনি বা মাথায় ঢুকে নি তাই তারা এখনো ত্যানা পেচিয়ে যাচ্ছে।এর আগের পর্বে লিখেছিলাম কোরান মতে পৃথিবী আগে সৃষ্টি হয়েছে না আকাশ আগে? এর পরেও মুমিনরা বেশ কিছু আর্গুমেন্ট নিয়ে এসেছেন।

আজকে আরও কিছু দাবি এবং আয়াতের ব্যখ্যা নিয়ে লিখছি, যেগুলো মুমিনরা আর্গুমেন্ট হিসাবে দিয়ে থাকে।

মুসলিমদের একটি সমস্যা হল তাদের বেশিরভাগ ই অল্প শিক্ষিত, মূর্খ, অথবা নিরক্ষর। কিছু মানুষ মুখস্থ বিদ্যার উপর নির্ভরশীল এবং কিছু মানুষ আছে উচ্চ ডিগ্রি লাভ করেছে, কিন্তু তারা যেসব বিষয় শিক্ষা লাভ করেছে সেগুলো যদি কোরান বা হাদিসের বিপক্ষে যায়, তবে সেগুলো তারা গ্রহণ করে না।

জাকির নাইকের মতো কিছু আসাধু ধর্ম ব্যবসায়ী এই সুযোগ টা নেয়। তারা যখন কোরানের অপ-ব্যাখ্যা করে, টেনে টুনে এবং গোঁজামিল দিয়ে হলেও কোরানের আয়াত গুলো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের সাথে মেলায়, এবং যেহেতু মুসলমান রা বেশির ভাগই অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, কোরান পড়েনি, ইংরেজি জানেনা ,অরিজিনাল তাফসির পড়েনি, তাই তখন তারা সেই সব মানুষদের কাছেই খুব তাড়াতাড়িই জনপ্রিয় হয়ে যায়।

নিচে কোরানের ৫ টি বৈজ্ঞানিক ভুল এবং জাকির নাইকের মিথ্যাচারের উদাহরণ দিচ্ছি। আশা করি বুঝাতে পারবো।

১. চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই – জাকির নাইকের মিথ্যাচার

জাকির নাইক দাবি করেন যে চাঁদের যে নিজস্ব আলো নেই, যেটা বিজ্ঞানিরা কিছু দিন আগে আবিষ্কার করেছে কিন্তু সেটা নাকি কোরানে বলা আছে ১৪০০ বছর আগে।

যে আয়াত গুলি দিয়ে উনি এই দাবিটা করছেন সে গুলো হচ্ছে – সূরা ইউনুসের পাঁচ নম্বর আয়াত, যেটার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে –

“তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে (কোরান ১০ঃ৫)।”

এবং সুরা আল-ফুরকানের ২৫ সুরার ৬১ নম্বর আয়াত বাংলা অনুবাদ হচ্ছে –

“কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।” (কোরান ২৫ঃ৬১)

এই আয়াতে যে দুটো শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে তা হল চাঁদের জন্য “নুর,” এবং সূর্যের জন্য “দিয়া।”

এখানে জাকির নাইকের ব্যাখ্যা হচ্ছে আল্লাহ্‌ যেহেতু এই দুই ধরনের আলোর জন্য দুটো শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, তাই একটা নিজস্ব আলো বুঝানো হয়েছে, আরেকটা প্রতিফলিত আলো বুঝানো হয়েছে।

প্রথমে দেখি চাঁদের যে নিজস্ব আলো নেই সেটা মানুষ কবে জানতে পেরেছে। এটা কি কোরানের আগে কেউ জানতো না?

আমরা দেখতে পাই এনাক্সাগোরাস, Anaxagoras (4-5 Century BC) এবং Aristarchus of Samos (310 – 230 BC) এর মতো গ্রীক বিজ্ঞানীরা কোরান নাজিল হওয়ার বহু পূর্বেই এই কথা বলে গেছেন। সুতরাং জাকির নাইকের এই দাবি মিথ্যা।

এবার দেখুন কোরানে আসলেই চাঁদের যে নিজস্ব আলো নেই এটা বলা আছে কি না। আমরা যদি মুনির এবং নুর এই শব্দ দুটোর অনুবাদ দেখি তাহলে আমারা শুধুই আলো পাবো। আমরা কোথাও প্রতিফলিত আলো বা নিজস্ব আলো নয় – এই কথা টা পাই না।

কোরানে যে সব আয়াতে নুর এবং মুনির শব্দ গুলো ব্যাবহার করা হয়েছে তার কোথাও প্রতিফলিত আলো বুঝানো হয় নি।

উদাহরণ ঃ “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।” (২ঃ২৫৭)

এখানে আলোর পথে নিয়ে আসা বলতে নুর শব্দটা ব্যাবহার করা হয়েছে। তার মানে কি আল্লাহ্‌ আমাদের অন্ধকার থেকে প্রতিফলিত আলোর পথে নিয়ে আসেন?

সুরা আন নুর কি তাহলে প্রতিফলিত আলোর সুরা? সুরা আন নুরের ৩৫ আয়াতে বলা হচ্ছে আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের নুর। তার মানে কি আল্লাহ্‌ নিজেই প্রতিফলিত আলো? (২৪ঃ৩৫)

এবার যে জিনিষটা আপনাদের চমকে দেবে সেটা হচ্ছে আপনারা যদি সুরা আল ক্বেয়ামাহর ৮ নম্বর আয়াতটা পড়েন। এখানে বলা হচ্ছে কেয়ামতের সময় “চন্দ্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে।” (৭৫ঃ৮)

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে কোরানে কোথাও বলা হয় নি যে চাঁদের আলো প্রতিফলিত আলো, বরং কোরান পড়ে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে – এটাই মনে হয়।

আসলে চাঁদের আলো আর সূর্যের আলো যে ভিন্ন আলো এটা খালি চোখেই দেখা যায়। এটা বুঝতে বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আর এটাই কোরানে বলা হয়েছে।

২. পৃথিবীর আকৃতি – দা হা হা হা হা হা !!

কোরানে কেউ আমাকে পৃথিবী যে গোল, এমন কোন আয়াত দেখাতে পারবেন না। বরং কোরান পড়ে পৃথিবী সমতল – এমনই মনে হতে পারে। এই নিয়ে আমি আগে অনেক গুলো লেখা লিখেছি।

মূল যে আয়াত টা জাকির নাইক দেখায় সেটা হচ্ছে কোরানের সূরা আন-নযিআ’ত – আয়াত ৩০ –

‘ওয়াল আরদ্বা বা’দা যালিকা দাহা-হা’ [কোরান ৭৯ঃ৩০]

এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন –
“-‘এখানে دَحَاهَا দাহা-হা শব্দটি ডিম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর সেটা যে সে ডিম না, এটি আস্ত একটি উট পাখির ডিম। আরবি শব্দ দাহাহা যার মূল শব্দ দুহিয়া। যার অর্থ উট পাখির ডিম। আর আমরা জানি পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয় এটি উত্তর দক্ষিণে সামান্য চ্যাপ্টা, যা উট পাখির ডিম আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে।”

সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তার এই মনগড়া ব্যাখ্যা শুনে যারা প্রকৃত কোরান হাদিস এবং আরবি ভাষা জানেন তারা অনেকেই তার কল্লা চেয়েছেন কোরান বিকৃত করার জন্য। এই আয়াতের তফসির থেকে এবং অনুবাদ থেকে পাওয়া যায় আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন – এটাই এই আয়াতে বুঝানো হয়েছে।

নিচে কিছু অনুবাদ দেখুনঃ

“এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন l ” (অনুবাদ – প্রফেসর ড: মুহাম্মদ মুজিবুর বহমান )

“আর পৃথিবী- এরপরে তাকে প্রসারিত করেছেন l ” (অনুবাদ – ড: জহুরুল হক)

Asad : And after that, the earth: wide has He spread its expanse,
Malik : After that He spread out the earth,
Pickthall : And after that He spread the earth,
Yusuf Ali : And the earth moreover; hath He extended (to a wide expanse):

তাই দেখা যাচ্ছে সকল প্রতিষ্ঠিত বাংলা আর ইংরেজি অনুবাদকরা সবাই “spread out” “extended” “ছড়িয়ে দিয়েছেন” “বিস্তৃত করেছেন” “প্রসারিত করেছেন” ইত্যদি শব্দ ব্যাবহার করেছেন। কোথাও কোন ডিম নাই। আরও বুঝা যাচ্ছে দাহাহা দ্বারা কিছু একটা করা বুঝাচ্ছে, অর্থাৎ এটি একটি verb।

এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন – শ্রদ্ধেয় ডঃ জাকির নাইক সাহেব ডিম কোথায় পেলেন??? নাকি তাকে ডিম থেরাপি দিতে হবে?? আপনারা দয়া করে ডঃ জাকির নাইক সাহেবের ডিম খুজে বের করুন !!!

৩. কোরানের হাস্যকর বিগ ব্যাং

জাকির নাইকের মতে কোরানে সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে বিগ ব্যাং পাওয়া যায়।

“Do not the Unbelievers see that the heavens and the earth were joined together (as one unit of creation) before we clove them asunder?”

কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এক সাথে মিশে ছিল অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম? (২১ঃ৩০)

এটা নাকি বিগ ব্যাং। কিন্তু মুমিনরা কি ভেবে দেখেনা যে বিগ ব্যাং এর সময় পৃথিবী ছিল না? পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে বিগ ব্যাং এর প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পর। আর আকাশ মণ্ডলী আর পৃথিবী কি পৃথক হয়েছে নাকি এক সঙ্গেই আছে? তাহলে এটা বিগ ব্যাং কিভারে হল?

৪. কোরানের ভ্রূণতত্ব

ডঃ জাকির নাইক মহাশয় দাবি করেন যে কোরানে ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে। উনি সুরা আল-মু’মিনূন এর ১৪ নং আয়াতটির কথা বলেন। আয়াত টি নিম্নরূপ:

এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি,
এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি,
অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি।
নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। (২৩ঃ১৪)

এখন যে কোন বিজ্ঞানী বা কোন মেডিক্যাল ডাক্তার এটাকে সঠিক ভ্রূণতত্ব বলবে না। এটা কোন অশিক্ষিত মানুষের পক্ষেই লেখা সম্ভব, যার মেডিক্যাল সাইন্স বা ভ্রূণতত্ব সম্বন্ধে কোন আইডিয়া নাই। এখানে সমস্যা টা পরিষ্কার এবং শব্দের মার প্যাচ দিয়ে এটাকে সহি করা যায় না এবং এটা বুঝতে আপনার ডাক্তার হতে হবেনা। আপনি আয়াত গুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন।

এখানে অনেকেই শব্দ গুলি নিয়ে তর্ক করে, যেমন “জমাট রক্ত রূপে” বা “মাংসপিণ্ড” কিন্তু এই গুলোর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে এই দুটো লাইন:

“এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি”

এখানে বুঝা যাচ্ছে যে কোরানে বলা হচ্ছে আল্লাহ আগে মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি তৈরি করেন এবং অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেন, যেটা মানুষ স্বাভাবিক ভাবে মনে করতে পারে বা গ্রিক চিকিৎসক এরিস্টটল বা গ্যালেনের বই তেও এমন পাওয়া যায়।

এখন মেডিক্যাল সাইস্ন থেকে আমরা জানি যে একটি ভ্রূণের ক্রমবিকাশের সময় অস্থি এবং মাংস একই সাথে তৈরি হয় । অস্থি কোন মতেই আগে আসেনা এবং মাংস দ্বারা আবৃত হয় না। বরং অস্থি পুরপুরি গঠিত হওয়ার আগেই মাংস সৃষ্টি হয়।

এখন আমাদের সর্বজ্ঞ সৃষ্টিকর্তা এমন ভুল কিভাবে করলেন? এবং আমাদের ইসলামের শেষ নবী ডঃ জাঁকির নাইক একজন ডাক্তার হয়েও এই ভুলটা ধরতে পারেন নি কেন? তার প্রতিটা লেকচারে শুনা যায় কোরানে ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে। এটা কি ভণ্ডামি নয়? নাকি জাঁকির নাইক মূর্খ? মনে হয় দুটাই !?

৫. রাতের বেলায় সূর্য কোথায় যায়

কোরানে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে যে তিনি (জুলকার নাইন) ওই স্থানে পৌঁছালেন যেখানে সূর্য অস্ত যায় এবং সে সূর্য কে একটি পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন। কোরানে কোথাও বলা হয় নি যে এটা জুলকার নাইনের কাছে মনে হয়েছে। (সুরা কাহফ- ১৮: ৮৬)

৬. আকাশ কি কঠিন পদার্থ?

কোরনের বেশ কিছু আয়াত থেকে এটা বুঝা যায় যে আকাশ একটা কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি। এটাকে আল্লাহ্‌ খুঁটি বা স্তম্ভ ছাড়াই সু উচ্চ করেছেন। এবং এটা আল্লাহ্‌র গুকুমে মানুষের মাথায় ভেঙ্গে পড়তে পারে।

“…..এবং তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে ওটা পতিত না হয় পৃথিবীর উপর তাঁর অনুমতি ছাড়া ? ….” (সূরা হাজ্জ, অধ্যায় ২২, আয়াত ৬৫)

সুরা আল মূলক : আয়াত – ০৩ দেখুনঃ

“যিনি সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন সুবিন্যস্তভাবে l তুমি পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না l তারপর তুমি দৃষ্টি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নাও, তুমি কি কোন ফাটল দেখতে পাচ্ছ ?” (অনুবাদ – ড : জহুরুল হক )

“তারা কি তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে, আসমার ও যমীনে যা আছে তার প্রতি লক্ষ্য করে না ? আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকেসহ ভুমি ধ্বসিয়ে দিবো অথবা তাদের উপর আকাশের কোন খন্ডের পতন ঘটাবো, …” (সূরা সাবা, অধ্যায় ৩৪, আয়াত ৯)

“আকাশমন্ডলী তার ঊর্ধ্বদেশ হতে ফেটে (ভেঙ্গে) পড়ার উপক্রম হয় এবং ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করে এবং জগদ্বাসীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে । …” (সূরা শুরা, অধ্যায় ৪২, আয়াত ৫)

“অথবা তুমি যেমন বলে থাকো, তদানুযায়ী আকাশকে খন্ড-বিখন্ড করে আমাদের উপর ফেলবে অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদেরকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবে ।” (সূরা ইসরা, অধ্যায় ১৭, আয়াত ৯২)

“যিনি তোমাদের জন্যে যমীনকে শয্যা ও আকাশকে ছাদ স্বরুপ করেছেন এবং যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেণ, ….” (সূরা বাকারাহ, অধ্যায় ২, আয়াত ২২)

“এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ…” (সূরা আম্বিয়া, অধ্যায় ২১, আয়াত ৩২)

“আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমন্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছো্; অতঃপর তিনি আরশে সমন্নীত হলেন ….” (সূরা রাদ, অধ্যায় ১৩, আয়াত ২)

“তিনি খুটি ব্যাতিত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন…..” (সূরা লোকমান, অধ্যায় ৩১, আয়াত ১০)

অর্থ্যাৎ আকাশ এমন কঠিন জিনিস যে, তা সৃষ্টিতে খুটি লাগবে কিন্তু আল্লাহ খুটি ছাড়াই তা বানিয়েছেন।

এখানে বুঝা যাচ্ছে যে, আকাশ কঠিন; না হলে খুটির কথা আসবে কেন?

এর মানে এই যে আকাশ হলো একটি ছাদ। আল্লাহর আকাশ এতো কঠিন যে, তাতে কোনো ফাটল নেই! আল্লাহ ইচ্ছা করলে আকাশ ভেঙ্গে মানুষকে আঘাত দিতে পারেন।

এখন প্রশ্ন হল উনারা আবার বলেন যে কোরান কোন বিজ্ঞানের বই নয়, কোরান একটা আয়াতের বই, অর্থাৎ সতর্ক করার বই। তো কোরানে বিজ্ঞান টেনে আনার কারণটা কি? এটার পিছনে যুক্তি হচ্ছে এটা যেহেতু বিজ্ঞানের যুগ, তাই বিজ্ঞান ছাড়া এখন মানুষকে বুঝানো কঠিন।

জাকির নাইকের মতো অসাধু ধর্ম ব্যাবসায়ীদের যুক্তি হচ্ছে যেহেতু কোরানে এমন কিছু আছে যা মানুষ সেই সময় জানতো না, তাই এটা ঐশী বানী ছাড়া লেখা সম্ভব নয়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন। কোরানের যে আয়াতগুল আছে, সেগুলো এতই অস্পষ্ট যে সেগুলোকে যেভাবে খুশি ব্যাখ্যা করে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলানো সম্ভব।

যদি কোরানে বিজ্ঞান থেকেও থাকে, সেটা কেউ বুঝল না কেন? নবীর সাহাবীরা, অনুবাদ কারিরা, এমন কি তফসির কারিরা, যাদের ভাষা আরবি, তারাও বুঝেনি। তবে এই বিজ্ঞানময় কিতাবের অর্থ কি যেটা কেউ বুঝেনা? শুধুমাত্র জাকির নাইক এটা বুঝল, এবং তিনি আরবি জানেন না, এবং সেটা বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করার পর।

এরকম অস্পষ্ট আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে পৃথিবীর যে কোন কবিতা বা লেখার মধ্যে বিজ্ঞান পাওয়া যাবে। যেমন “বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।” নজরুলের এই কবিতা পড়েও আপনার মনে হতে পারে যে নজরুল মুঠো ফোনের কথা বলে গেছেন। হিন্দু এবং গ্রিক পুরান থেকেও এরকম বিজ্ঞান বের করা যাবে।

আর মনে করুন ধরে নিলাম যে কোরানে একটা বৈজ্ঞানির থিসিস পেপার আছে, যেটা হুবহু আইনস্টাইনের জমা দেওয়া পেপারের সাথে মিলে গেল, তাতে কি প্রমাণ হবে যে সেটা আল্লাহ্‌ লিখে পাঠিয়েছে? না। সেটা তে শুধু এটাই বুঝা যাবে যে কোরানে এই থিসিস পেপার কিভাবে আসলো সেটা আমরা জানিনা, এবং এটা একটা রহস্য।

কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল - ২