সূরা ফুস্সিলাত, (سورة فصلت), এর ১০ এবং ১১ নম্বর আয়াত লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে আল্লাহ্ আগে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তার পর আকাশ।
সূরা ফুস্সিলাত, (سورة فصلت), এর ১০ এবং ১১ নম্বর আয়াত ঃ
“তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।” (৪১ঃ১০ এবং ৪১ঃ১১)
তাফসিরে ইবনে কাথির থেকে পাওয়া যায় যে
আল্লাহ বলেন, তিনি পৃথিবীকে প্রথম সৃষ্টি করেছেন, কারণ এটি ভিত্তি, এবং ভিত্তিটি প্রথমে তৈরি করা উচিত, তারপর ছাদ।
এ ব্যাপারে সুরা আল বাক্বারাহর ২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ আরও বলেছেন যে
“তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুত: তিনি তৈরি করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।” (২ঃ২৯)
সূরা আন-নযিআ’ত এর ২৭ – ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ বলছেন
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (৭৯ঃ২৭-২৮)
সুরা আয-যারিয়াত এ বলা হচ্ছে ঃ
“আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।”
“আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।”(৫১ঃ৪৭-৪৮)
এখানে আল্লাহ্ তার বিশাল ক্ষমতার কথাই ব্যক্ত করছেন। যদিও অনেক অসাধু মুমিনরা এখানে “মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল” কথাটা কোরানে আছে বলে দাবি করেন, কিন্তু বিস্তৃত, এবং সম্প্রসারণশীল কথা দুটো এক না।
সুরা লোকমানে আল্লাহ্ বলছেন ঃ
তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি। (৩১ঃ১০)
এবং সব থেকে হাস্যকর আয়াত হচ্ছে – পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে? পৃথিবী কোথায় ঢলে পড়বে? এটাকে কিভাবে বিজ্ঞানের সাথে মিলাবেন, জানিনা।
এই আয়াত গুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে আল্লাহ্ প্রথমে পৃথিবী এবং পরে আকাশ সৃষ্টির করেন। তিনি আকাশ নির্মাণ করেন, এবং একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। আকাশমন্ডলী বা মহাশূন্য কে উচ্চ বলার কারণ কি? এটা উপরে কেন? এর কারণ হচ্ছে এটা পৃথিবীর উপরে ছাদের মতো যা তিনি খুঁটি ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন ।


Pingback: সাত আসমান রহস্য – কোরানে বিজ্ঞান – ৩ | সত্যের পুজারি