১. মুমিনঃ ইসলাম যদি সত্য না হত তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি লোক এটা কিভাবে বিশ্বাস করে? সমাজের অনেক জ্ঞানী গুনি, শিক্ষিত লোক এটা বিশ্বাস করে, তো তারা কি সবাই বোকা?
নাস্তিকঃ একটা জিনিষ সত্য কি না তা কত জন বিশ্বাস করে, বা যারা বিশ্বাস করে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক স্ট্যাটাস, এসবের উপর নির্ভর করে না। সত্য নির্ভর করে প্রমাণের উপর।
২. মুমিনঃ আপনি তো না দেখেই আপনার মা বাবা কে বিশ্বাস করেন যে তারা আপনার মা বাবা, তো আল্লাহ্ কে কেন না দেখে বিশ্বাস করেন না?
নাস্তিকঃ আপনার এই একই যুক্তিতে পৃথিবীর যে কোন দাবি সত্য বলে দাবি করা যায়। একই দাবি যদি একজন ওঝা এসে করে যে আপনি যেহেতু না দেখে আপনার মা বাবা কে বিশ্বাস করেন, তাহলে মামদো ভুত বিশ্বাস করবে সমস্যা কোথায়?
৩. মোহাম্মাদ তো অশিক্ষিত ছিল, তাঁর পক্ষে এমন একটা কিতাব রচনা করা কিভাবে সম্ভব হল, আর কোরানের সব ভবিষ্যৎবাণী সফল হচ্ছে, এটা কি প্রমাণ করে না যে কোরান আল্লাহ্র বানী?
নাস্তিকঃ না। কোরানে কোন বিজ্ঞান নেই, আর ভবিষ্যৎবাণীও নেই। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নেই যে কোরান বিজ্ঞান দ্বারা ভরপুর, তারপরেও এটা প্রমাণ হয় না যে কোরান আল্লাহ্র লেখা। এটাতে শুধু এত টুকুই প্রমাণ হয় যে মোহাম্মাদ এই কিতাব কি ভাবে লিখেছিল সেটা আমরা জানিনা।
৪. মুমিনঃ আপনারাও তো অন্ধভাবে বিজ্ঞানে বিশ্বাস করেন।
নাস্তিকঃ বিজ্ঞানে বিশ্বাস করা অন্ধ বিশ্বাস নয়। বিজ্ঞান একটা সত্য জানার পদ্ধতি । বিজ্ঞানীদের উপর আমার আস্থা আছে যেটা তারা অর্জন করে নিয়েছে। এটার সাথে অন্ধ বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই।
৫. মুমিনঃ আপনারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন কোন প্রমাণ ছাড়াই।
নাস্তিকঃ বর্তমানে ৯৭% বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে এবং তারা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। এখন যারা এই বিষয়ে এক্সপার্ট, তারা নিশ্চয়ই আপনার আর আমার থেকে বেশি বুঝে। কিন্তু এটাও অন্ধ বিশ্বাস নয় কারণ বিবর্তনবাদ কি কারণে সত্য সেটা আপনি নিজেই যাচাই করে দেখতে পারেন।
৬.মুমিনঃ আপনার জ্ঞান নেই দেখে আপনি বিশ্বাস করেন না।
নাস্তিকঃ একই কথা আমি আপনাকেও বলতে পারি। আপনার জ্ঞান নেই দেখে আপনি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেন না।যদিও বিবর্তনবাদের হাজার হাজার প্রমাণ আছে । কিন্তু আপনি আসমানি কিতাবে বিশ্বাস করেন যার কোন প্রমাণ নেই। আপনি রামে বিশ্বাস করেন না কারণ রামায়ণ পড়েন নি। আসলে বিশ্বাস যুক্তি প্রমাণের মাধ্যমে হয়। বিশ্বাস করতে হয় প্রমাণ পাওয়ার পর, তার আগে নয়, কিন্তু প্রমাণটা গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কাউকে যদি প্রমাণ দেওয়ার পরও সে বিশ্বাস না করে, তবে সেটা তার ব্যাপার।
৭. মুমিনঃ আপনিও তো অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ্ নেই
নাস্তিকঃ না, আমি এটা বিশ্বাস করিনা। আমি আল্লাহ্ আছে বিশ্বাস করিনা কারণ প্রমাণ নেই। একই কারণে আমি মামদো-ভুত আছে বিশ্বাস করিনা। ঘোড়ার ডিম আছে বিশ্বাস করিনা। তাঁর মানে এই নয় যে আমি দাবি করছি আল্লাহ্ নেই। আমি কনভিন্সড নই যে আল্লাহ্ আছে কি না।
৮. মুমিনঃ আপনি তো আপনার বাবা যে আপনার বাবা সেটা বিশ্বাস করেন আপনার মা বলেছে তাই কিন্তু আপনার মা বলেছে আল্লাহ্ আছে, আপনি সেটা বিশ্বাস করেন না কেন?
নাস্তিকঃ আমার মা বলেছিল আমার জন্মের পূর্বে আমাদের বাড়িতে একটা গাছ ছিল । এটা বিশ্বাস করেছি। আমার বাবা বলেছিল উক্ত-গাছে মৃত ব্যাক্তির আত্মা ছিল। আমি বিশ্বাস করিনি।গাছ থাকতেই পারে। আত্মা থাকা সম্ভব নয়।
কোন দাবি বিশ্বাস করার আগে দাবির ধরণ থেকে বুঝতে হয় এটা সত্য হওয়ার সম্ভাবনা কতো খানি। বাবা মা ছাড়া সন্তান পৃথিবীতে আসতে পারে না। এবং বাবা মা আমার চোখের সামনেই দেখা যায়। আর স্রষ্টা শুধু মাত্র ধর্মগ্রন্থেই সীমাবদ্ধ।
এখন মনে করেন আমার বাবা মা আমার আসল মা বাবা নয়। তাতে কি আমার কিছু যায় আসে? যারা আমাকে ছোট বেলা থেকে লালন পালন করেছে আমি তাদেরই মা বাবা বলে জানি কারণ তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে আমাকে বড় করেছে কিন্তু আপনার সৃষ্টিকর্তার কোন প্রমাণ তো নেই ই, তাঁর উপর না মানলে সে আমাকে আগুনে পুড়বে বলে ভয় দেখাচ্ছে। আবার তাঁর অনুসারীরা আমাকে তাদের দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার তারা বিশ্বাস করে অবিশ্বাসীরা ফেতনা ফেসাদ সৃষ্টিকারী, আমাদের হত্যা করলে তারা জান্নাতে যাবে। তো কোনটা বেশি গ্রহনযোগ্য?
৯. মুমিনঃ নাস্তিকরা তো ফেতনা ফেসাদ সৃষ্টি করে
নাস্তিকঃ ফেতনা ফেসাদ বিশ্বস না করার জন্য হয় না, ফেতনা ফেসাদ হয় ভুল জিনিষ বিশ্বাস করার কারণে। যারা বিমান নিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হাজার হাজার লোক মেরে ফেলেছিল তারা বিশ্বাসী ছিল। যারা ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে তারা বিশ্বাসী। পৃথিবীতে ধর্মের কারণে যত লোক মারা যায়, ক্যান্সারেও এত লোক মারা যায় না, তাই ধর্ম ক্যান্সারের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
১০.মুমিনঃ সৃষ্টিকর্তা যদি না থাকে তবে এই মহাবিশ্বে সৃষ্টি হল কিভাবে? কোন কিছু কি নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারে?
নাস্তিকঃ এই মহাবিশ্বে সৃষ্টি হল কিভাবে এটার উত্তর এখনো আমরা জানিনা। এটার উত্তর আমরা খুঁজে চলেছি। কিন্তু আপানি যদি দাবি করেন যে মহাবিশ্বের কোন কিছু নিজে থেকে সৃষ্টি হতে পারেনা, তবে সেটা আপনাকে প্রমাণ করে দেখাতে হবে এবং এই মহাবিশ্বের প্রতিটা বিষয় সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকতে হবে। কিন্তু একজন সৃষ্টিকর্তা করেছে বলে দিলে আমাদের জ্ঞান সেখানেই থেমে যায় এবং এটা কিভাবে হল তার কোন কিছুই আমরা ব্যাখ্যা করতে পারিনা।