ইসলাম কি গণতন্ত্রের বিপক্ষে?

মুসলিমরা অন্ধ ভাবেই গণতন্ত্রের বিপক্ষে কারণ তারা মনে করে আল্লাহ্‌র আইন এবং জীবন ব্যবস্থাই সর্বশ্রেষ্ঠ, তাই কোন কিছুই খিলাফতের চেয়ে ভালো হতে পারেনা। একটা উদাহরণ দেই –

নিচে একজন মুমিন মুসলমানের স্ট্যাটাস: –

আচ্ছা “গণতন্ত্র” কি সবসময়ই সঠিক????কারণ, সম্রাট হুমায়ূন কিংবা রাজা রামমোহন রায় যখন সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে ছিলেন তখন গণতান্ত্রিক ভোটাভুটি থাকলে অবশ্যই হারতেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহ প্রথা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছিলেন তখন গণতান্ত্রিক ভোটাভুটি থাকলে অবশ্যই হারতেন। বেগম রোকেয়া যখন নারীশিক্ষার জন্য সংগ্রাম করছিলেন তখন ভোটাভুটি থাকলে অবশ্যই হারতেন। তাই জানতে চাইলাম “গণতন্ত্র” নামক বিষয়টি সবসময়ই সঠিক কি না?

আসলে মুসলমানেরা গণতন্ত্রের সুবিধা গুলো না দেখে, সমস্যা গুলো তুলে ধরে। গণতন্ত্রের সমস্যা তুলে ধরলেই সেটা বাতিল হয়ে যায় না, সেটার সমাধানের ব্যবস্থা করতে হয়।

ইসলামিক বিঁধান যে সম্পূর্ণ ভুল, সেটা আমরা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছি, এবং একমাত্র গণতন্ত্রই পারে নাগরিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে। গণতন্ত্র শব্দের অর্থ হচ্ছে- সাধারণ মানুষের শাসন অথবা জনগণের শাসন। যেখানে প্রতিটা মানুষের মতামতের সুযোগ রয়েছে। এখানে আলাপ আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হচ্ছে

“Government of the people, by the people, for the people”

অনেক উন্নত দেশে সাধারণ মানুষের মতামত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে সেটা চিন্তা করে পার্লামেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যেখানে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসে এবং আলোচনায় অংশ নেয়।

এখন যারা আমাদের সরকার এবং সংবিধান গঠন করেছেন তারা অনেক খানি বিচক্ষণ ছিলেন কারণ তারা সরাসরি সাধারণ মানুষকে আইনকানুন এবং সরকারি নীতিমালায় হস্তক্ষেপ করতে দেয় নি। যদি দিত, তাহলে ৯০% ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী জনগণ সারিয়া আইনই প্রতিষ্ঠা করতে চাইতো, যেখানে বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ এবং দাস দাসীর সাথে সেক্স করার মত জঘন্য কাজ গুলো স্থান পেয়ে যেত। কিন্তু আমাদের সংবিধান একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের কথা বলে।

এখন ইসলাম গণতন্ত্রকে কিভাবে দেখে সেটা দেখুন। ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়

“গণতন্ত্র ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক একটি তন্ত্র। এই তন্ত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগণের হাতে অথবা তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধি (পার্লামেন্ট সদস্য) এর হাতে অর্পণ করা হয়। তাই এ তন্ত্রের মাধ্যমে গায়রুল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয় (আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে)

অধিকাংশ সদস্য একমত হওয়ার মাধ্যমে এমন সব আইন জারী করা যায় জনগণ যেসব আইন মেনে চলতে বাধ্য; এমনকি সে আইন যদি মানব প্রকৃতি, ধর্ম, বিবেক ইত্যাদির সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবুও। উদাহরণতঃ এই তন্ত্রের অধীনে গর্ভপাত করা, সমকামিতা, সুদি মুনাফার বিধান ইত্যাদি জারী করা হয়েছে। ইসলামি শাসনকে বাতিল করা হয়েছে। ব্যভিচার ও মদ্যপানকে বৈধ করা হয়েছে।”

সবুজ বাংলা ব্লগে একটি লেখা পেলাম যেটাতে বলা হল

“গণতন্ত্র বনাম ইসলাম – গণতন্ত্র একটি মতবাদ। অন্যসব মতবাদের ন্যায় গণতন্ত্রও মানব সভ্যতাকে অর্থবহ করতে চায়। মুসলমান হিসাবে মানবতার স্বার্থে আমরা এ মতবাদকে স্বাগত জানাব কিনা ভেবে দেখার প‌্রয়োজন রয়েছে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করছে তার মধ্যে গণতন্ত্র একটি সুদূর প্রসারী, সূক্ষ্ম ও স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। “

এই লেখায় আরও বলা হল –

.”এখানে উল্রেখ্য যে, গণতন্ত্রের সাথে হিন্দুদের মুর্তির সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন হিন্দুরা নিজেরাই পূজার জন্য মুর্তি তৈরি করে আবার নিজেরাই তা ডুবিয়ে দেয়। তেমনি জনগন নিজেদের জন্য ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে আবার নিজেরাই সরকারের বিরোধিতা করে বা পতন ঘটায়।”

সুতরাং দেখা যাচ্ছে ইসলাম-বিদ দের মতে গণতন্ত্র ইসলাম বিরোধী একটি মতবাদ। আর আধুনিক মানুষদের মতে ইসলাম গণতন্ত্র এবং আধুনিক সভ্যতার পথে অন্তরায়।

importance-of-democracy-quote.jpg

Leave a comment