আচ্ছা, আপনি এই সুন্দর পৃথিবী দেখে কি এটা বোঝেন না যে কেউ একজন এটা সুন্দর করে সাজিয়েছে? আপনি একটা ফুল, একটা প্রজাপতি, একটা ঘাস, একটা পাতা, একটু খেয়াল করে দেখুন, আপনি কি একজন সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ পান না?
আমরা চারিদিকে যা দেখতে পাই তা থেকে মনে হয় নিশ্চয়ই কেউ আছে। এটা বুঝার জন্য আপনার বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন নেই, শুধু বিবেক থাকলেই চলে – সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ চাইলে মোটামুটি উপরের বক্তব্য গুলিই পাওয়া যায় মুমিনদের কাছ থেকে। আবার এই মুমিনরাই বলে ধর্ম বিজ্ঞান সম্মত। কিন্তু আপনি কি কোন বিজ্ঞানী কে বলতে শুনেছেন যে আপনি চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন, এর পর আপনার বিবেক বা কমন সেন্স যেটা বলে সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত হবে?
এই রকম হাস্যকর মুমিনিয় আরও কিছু যুক্তি আছে, যেমন স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি কিভাবে হল? এই মহা বিশ্ব কি নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে? কেউ কি নিয়ন্ত্রণ করছে না?
তাদের প্রতিটা প্রশ্নই লোডেড প্রশ্ন এবং তাদের সেই বদ্ধমূল ধর্মীয় চিন্তা থেকেই উদ্রেক হয়। কারণ তারা স্রষ্টার প্রমাণ দিতে গিয়ে নিজেদের সৃষ্টি হিসাবে দাবি করে। এটা একটা সার্কুলার লজিক।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম একজন আছে । তাদের কথা মতোই, সে এই মহা বিশ্ব সৃষ্টি করেছে, এবং এই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। তাহলে কি হবে?
অনেকেই এরকম মনে করে যে একজন স্রষ্টা আছে । তারা ধর্ম কর্ম কিছুই করেনা, কিন্তু তবুও তারা সৃষ্টিকর্তার বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা।
যদি আসলেই একজন স্রষ্টা থেকে থাকে, তাহলে কি আপনি আপনার জীবন যাপন ভিন্ন ভাবে করতেন? নাকি এখন যেভাবে করছেন সেভাবেই করতেন?
আর মনে করেন এমন কেউ নেই। মানে আপনার কাজ কারবার কেউ দেখছেনা, আপনার মরার পরে কোন বিচার হবে না। তাহলে কি আপনি অপরাধ শুরু করে দিবেন?
তো যদি একজন স্রষ্টা থেকেও থাকে, যার সম্পর্কে কোন প্রমাণ পাওয়া সম্ভব নয়, তাহলে তার থাকা আর না থাকার মধ্যে পার্থক্য কি? আমার কাছে তো কোন পার্থক্য নেই। আমার বিশ্বাস সেই স্রষ্টা কোনদিন কোন মানুষের সাথে যোগাযোগ করেনি। তার প্রমাণ হচ্ছে ধর্ম গ্রন্থগুলি পড়লেই বুঝা যায় এগুলি যারা লিখেছেন তারা তাদের সীমিত জ্ঞান থেকেই লিখেছেন।