এই বিশাল মহাবিশ্ব আমরা কিছুই জানিনা – অজ্ঞতা থেকে কুযুক্তি (Argument from Ignorance Fallacy)

এটা একটা মুমিনিয় কুযুক্তি, যে এই বিশাল মহাবিশ্ব আমরা কিছুই জানিনা তাই সৃষ্টিকর্তা একজন আছে, সেটা আমরা অস্বীকার করি কিভাবে?

আবার অনেকে বলছেন ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা থাকার চান্স ৫০%

কিন্তু আপনার এই একই যুক্তি কি মামদো ভুত বা ঘোড়ার ডিমের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন? এই মহাবিশ্বের কোথাও ঘোড়ার ডিম যে নেই তা আপনি কিভাবে জানলেন? তাহলে ঘোড়ার ডিমে বিশ্বাস করেন না কেন? এগুলো থাকার চান্স কি ৫০% ?

আসলে যুক্তি এভাবে কাজ করেনা। আমরা যেটা উড়িয়ে দিতে পারিনা সেটাই যে বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমরা বিশ্বাস করি কোন একটা জিনিষ থাকার সম্ভাবনা কতো খানি এবং এটা থাকার কতো টা প্রমাণ আছে তার উপর।

আমাদের হাতে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা থাকার কোন প্রমাণ নেই। বিশেষকরে ধর্মগ্রন্থ গুলো যে দাবি গুলি করে, সেটা ।

আরেকটা বিষয় হল সৃষ্টিকর্তা নেই দাবি করা আর প্রমাণের অভাবে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস না করা, এ দুটো ভিন্ন বিষয়। কেউ যদি দাবি করে যে সৃষ্টিকর্তা নেই, তাহলে তাকে এটা প্রমাণ করে দেখাতে হবে।

প্রমাণের দায় ভার যে দাবি করবে তার উপর, কিন্তু কেউ যদি আপনার দাবির স্বপক্ষে কোন প্রমাণ না পায় এবং convinced না হয় তাহলে সে আপনার দাবি মেনে নিবেনা। তার মানে এই নয় যে সে উলটো টা দাবি করছে।

মনে করেন আপনি দাবি করলেন যে আপনার কাছে ৫ কোটি টাকা আছে, আমি বিশ্বাস করলাম না। তার মানে এই নয় যে আমি দাবি করছি যে আপনার কাছে ৫ কোটি টাকা নেই। আমাকে এটা প্রমাণ করতেও হবে না যে আপনার কাছে ৫ কোটি টাকা নেই। আপনি বলতে পারেন না যে প্রমাণ করুন আমার কাছে ৫ কোটি টাকা নেই। তা না হলে আমার কাছে ৫ কোটি টাকা আছে প্রমাণিত হয়।

আরেকটা বিষয় হল কে কি বিশ্বাস করবে সেটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। বিশ্বাস টা আসে আপনার জীবনে একটা বিশ্বাস কতোখানি গুরুত্ব বহন করে তার উপর। কিন্তু আপনি যেটা বিশ্বাস করেন, সেটা যদি আরেকজন বিশ্বাস না করে, তার জন্য তাকে জোর করতে পারেন না। এবং তার সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষণ করতে পারেন না।

Leave a comment