যদিও মুখে বলা হয় ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে, ইসলাম নারীকে কখনোই পুরুষের সমকক্ষ মনে করে না।
বলা হয় মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত, কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি ভাগ করার বেলায় মেয়েরা পায় পুরুষের অর্ধেক । আবার মেয়েদের সাক্ষী হিসাবে পুরুষের অর্ধেক ধরা হয়।
সুরা আন-নিসার প্রথম আয়াত “হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।” – এটি বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্পূর্ণ ভুল!
এই আয়াত পড়লে মনে হতে পারে যে আল্লাহ্ প্রথমে পুরুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তার পর তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। তার মানে তার সঙ্গিনী সব সময়ে সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন।
বৈজ্ঞানিক ভাবে এটা প্রমাণিত যে মানুষ বা মানব জাতি কোন এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি হয় নি। যদি তাই হতো, তাহলে নারী এবং পুরুষের ক্রোমোজোম ও একই হতো।
এর পরে আসুন সূরা আন নিসার ৩ নম্বর আয়াতে।
“আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথার্থভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা”
তার মানে মেয়েরা হল সাজানো কিছু জিনিষের মতো। তাদের হক দিতে না পারলে পছন্দ করে বিয়ে করে নিলেই হবে। আপনার সাধ্য মতো, দুই তিন কিংবা চারটা। একটা করার শর্ত হল যদি এটা আশঙ্কা থাকে যে আপনি ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারবেন না।
ন্যায় সঙ্গত আচরণ কাকে বলে, সেটাও একটা বিতর্কের বিষয়, কারণ এটার কোন রিজিড ধারনা ইসলামে নেই। আপনি কি আপনাদের স্ত্রীদের সাথে একই পরিমাণ সময় ব্যয় করবেন? নাকি যাকে বেশি পছন্দ তার সাথে বেশি সময় ব্যয় করতে পারবেন? ন্যায় সঙ্গত আচরণের মানদণ্ড বা পরিমাপ কি হবে? তারপর আছে অধিকার ভুক্ত দাসী।
সুরা আন নিসার 176 নং আয়াতে বলা হচ্ছে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। যুক্তি হিসাবে মুমিনদের বলছে, মেয়েরা নরম প্রকৃতির তাই তাদের সহজেই প্রভাবিত করা যায় আর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যদিও এই দাবি গুলি ভিত্তিহীন।
নারী নেতৃত্ব ও ইসলামে হারাম। সেটা সুরা নিসার 34 নং আয়াতে পরিষ্কার বোঝা যায় –
“পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।”
তো এই আয়াত থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ চান শুধু পুরুষ অর্থ উপার্জন করবে। পুরুষেরা অর্থ ব্যয় করে তাই তারা নারীর উপর কৃর্তত্ব করতে পারবে, প্রয়োজনে নারীদের প্রহারও করা যাবে, যদি তারা অবাধ্য হয়। যদিও হুযুরেরা বলে এই প্রহার একটা প্রসেসের মাধ্যমে হতে হবে। যত প্রসেসই থাকুক, আর আপনার স্ত্রী যত অন্যায় ই করুক, তাকে প্রহার করার অধিকার কি আপনার আছে? আপনার সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর, আপনি আপনার স্ত্রীর পালন কর্তা নন যে দেশের আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেই বিচার শুরু করে দিবেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তোমরা যে সমস্ত স্ত্রীদের মধ্যে অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর।” – [4:34]
সুরা নিসা পড়লে পরিষ্কার বুঝা যায় যে নারীরা মানুষ নয়, অর্ধেক মানুষ বা সাব হিউম্যান, এবং আল্লাহ্ চান নারীরা পুরুষের দাসত্ব করুক ।

