মনে করুন আমি আপনার বিরুদ্ধে আদালতে একটি নালিশ করলাম যে আপনি আমাকে খুন করার চেষ্টা করেছেন। যখনি আমি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবো, এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব ও আমার উপর আসবে। অর্থাৎ আমি যেহেতু অভিযোগ এনেছি, এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব ও আমার। পক্ষান্তরে আপনার এটা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই যে আপনি হত্যা করার চেষ্টা করেন নি। বা অন্য কেউ হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আপনার শুধু এটাই প্রমাণ করতে হবে যে আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
সত্য নয়, এবং মিথ্যা এ দুটো জিনিষ আসলে আলাদা। একটু বুঝিয়ে বলি। কোন জিনিষ যদি সত্য বলে প্রমাণিত না হয়, সেটা সত্য নয়।কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেটা মিথ্যা। তার মানে সেটা সত্য বলে প্রমাণিত হয় নি। কিন্তু উপজুক্ত প্রমাণ পেলে সেটা সত্য হতেও পারে।
এখানে একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে আমি যদি আমার অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারি, তাহলে শুধু এটাই প্রমাণ হয় যে আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা যায় নি। এটা কিন্তু প্রমাণ হয় না যে আপনি আসলেই আমাকে হত্যা করতে ছেয়েছিলেন কি না।
কোর্টের নীতিমালা অনুযায়ী, আপনি ততক্ষণ অপরাধী নন, যতক্ষণ না আপনার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হয়। অর্থাৎ অপরাধী প্রমাণ না হলে আপনি আসলেই অপরাধ করেন নি, এটা প্রমাণ হয় না। এটা শুধু কোর্টের প্রিসামশান থাকে যে প্রমাণ না হলে আপনি নির্দোষ।
বিশ্বাসীদের প্রিজামসান থাকে ঠিক তার বিপরীত। তারা আগেই বিশ্বাস করে যে তাদের বিশ্বাস সত্য এবং যারা বিশ্বাস করেনা তারা মিথ্যা। কিন্তু ডিফল্ট পজিশন হওয়া উচিৎ বিশ্বাস না করা।
এখন কোর্টের এই একই লজিক যদি ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করি, তবে কেউ যদি দাবি করে ঈশ্বর আছে, তবে এটা প্রমাণ করার দায়িত্বও দাবি কারীর, এবং যদি সে প্রমাণ করতে না পারে, তবে সেটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। তার মানে কিন্তু এই নয় যে ঈশ্বর নেই।
এই কারণে আমি যদি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস না করি, তবে আমার প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই যে সৃষ্টিকর্তা নেই। যেহেতু সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় নি। তাই সৃষ্টিকর্তার বিশ্বাস করা অযৌক্তিক, এবং আমি এখন convinced নই। তবে কোনদিন কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে, তবে অবশ্যই বিশ্বাস করবো।

