আফ্রিকায় বেড়াতে গিয়ে তাদের পং পং ধর্মের গুরুর সাথে পরিচয় হল। সে বলল তাদের ধর্মগ্রন্থ পৃথিবীর একমাত্র নির্ভুল কিতাব, এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা শুধু মাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা পুঙ্গা পুঙ্গার পক্ষেই লেখা সম্ভব।
আমি বললাম এরকম দাবি তো সব ধর্মের লোকেরাই করে। আপনাদের পাশের রাজ্যে যে চং চং ধর্মের লোকরা বাস করে, তাদের জিজ্ঞেস করলেই তো তারা বলে চং চং ধর্মই সত্য, আর আপনাদের ধর্ম গ্রন্থ পুং পুং নাকি ভুলে ভর্তি আর আগের সব বই থেকে কপি পেস্ট করা ।
সে বলল তাহলে প্রমাণ হয়ে যাক, আমি আপনাকে আমাদের ধর্মগ্রন্থে দিচ্ছি । আপনি পড়ে কাল আমাকে বলবেন কোন ভুল আছে কিনা । আধুনিক সব বিজ্ঞানের আবিষ্কার, যেমন ফেসবুক, ইন্টারনেট, রকেট সব আমাদের কিতাবে ৫০০০ বছর আগেই লেখা আছে।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি পড়ে দেখি।
আমি বইটা পড়ে মনে হল সবই আগডুম বাগডুম লেখা।
পরের দিন ধর্ম গুরুর সাথে দেখা হলে আমি বললাম কি বই পড়তে দিয়েছেন? সবই তো আগডুম বাগডুম লেখা, পিপড়ায় নাকি কথা বলে, পৃথিবী পেরেক দিয়ে স্থির রাখা হয়েছে, আর ঘোড়ায় নাকি আকাশে উড়ে…।।
তিনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, আমি জানতাম আপনি বুঝবেন না, কারণ এই বই বোঝা সহজ নয়। এক এক জন এক এক রকম বুঝে। কিন্তু এই বই বুঝা খুবই সহজ। প্রথমে আপনাকে প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে। প্রেক্ষাপট বুঝেলে আপনি অর্থ প্রায় সব বুঝতে পারবেন। তারপর আপনাকে ব্যাখ্যা পড়তে হবে। আমাদের রসুল বোঙ্গা বঙ্গার জীবনী পড়তে হবে। তার পর কিছু কিছু বুঝবেন।
তবে আমাদের প্রভু বলে দিয়েছেন এই পুস্তক বুঝা খুবই সহজ যাদের জ্ঞান আছে। আর যারা বুঝে না তাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই।
আমি বললাম এখানে পরিষ্কার লেখা ঘোড়া আকাশে ওড়ে, আর আপনি বলছেন ব্যাখ্যা লাগবে, প্রেক্ষাপট লাগবে।
তিনি বললেন এটা অনুবাদের ভুল। যারা অনুবাদ করেছে তারা ঘোড়া শব্দের ভুল অনুবাদ করেছে। ওখানে ঘোড়া বলতে রকেট বুঝানো হয়েছে। তখনো রকেট আবিষ্কার হয় নি তো, তাই পুং পুং ভাষায় ঐ শব্দটাই ছিল না।
আমি বললাম আপনি এই শব্দটার মানে রকেট বুঝলেন, আর ৫০০০ বছর আগে যারা ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা বুঝল না, তারা ঘোড়া লিখল?
তিনি বললেন, ঐ যে রকেট শব্দটাই তো ছিলনা। এই জন্যই বলেছি প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। আমাদের রসুল বোঙ্গা বোঙ্গা ঘোড়ায় করে আকাশে উঠেছে, তার মানে কি? যে কোন বুদ্ধিমান লোক বুঝবে তিনি রকেটে করে উঠেছেন।
আমি বললাম তাহলে ডিকশনারিতে নেই কেন?
তিনি বললেন, আমি ডিকোশোনারি সংশোধন করে নিয়েছি। এখন যদি আমার লেখা ডিকোশোনারিটা আপনি পড়েন, তো দেখতে পাবেন এই শব্দের অর্থ ঘোড়াও হতে পারে আবার রকেট ও হতে পারে, মানে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী যেখানে যে অর্থটা প্রয়োজন হয়, এই শব্দের অর্থ টা সেটাই হয়ে যায়। এই শব্দ থেকেই তো চং চং রা রকেট আবিষ্কার করেছে।
আরেকটা উদাহরণ দেই, যেমন এই শব্দটা, পুং পুং ভাষায় দা হি হি হি, যেটার অর্থ অন্য সব জায়গায় সমতল, কিন্তু যখন আমাদের স্রষ্টা পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কথা বলছেন, তখন এটার অর্থ হয়ে যায় ডিম্বাকৃতি। তা ও যে সে ডিম নয়, উট পাখির ডিম। এটাও আমার লেখা ডিকোশোনারিতে আছে, আগে ছিল না । আগের দিনে যারা ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা জানতো না যে পৃথিবী ডিম্বাকৃতি তাই তারা সমতল লিখেছে। কিন্তু আমাদের প্রভু ডিম্বাকৃতিই বলেছে।দা হি হি হি।।
তাই আমাদের গ্রন্থে কোন ভুল নেই,যখন যে শব্দের অর্থ যেটা হওয়া প্রয়োজন সেটাই হয়ে যায় হে হে হে ।

