শব্দ এবং তার ব্যাবহার (Etymology)

কখনো ভেবে দেখেছেন যে ফোনে নাম্বার ডায়াল করা কেন বলে? আমরা আমাদের আধুনিক ফোনে আসলে কেউ ডায়াল করি না। আমরা কিছু বোতাম প্রেস করি। আমরা যারা পুরানো ফোন ব্যাবহার করেছি তারা জানি যে আগেকার দিনের ফোনে একটা গোল ডায়াল থাকতো আর সেখান থেকেই নাম্বার ডায়াল করা এসেছে।

আজকে যেটা আলাপ করবো সেটা হল এটিমলজি (Etymology) । এটি হল একটি শব্দের উৎপত্তি এবং ব্যাবহার নিয়ে স্টাডি করা।

কোন শব্দই আসলে নিজে থেকে কোন অর্থ বহন করে না, মানুষ তাতে অর্থ দেয়, এবং একটি শব্দ অনেক অর্থে ব্যাবহার করা যায়। কোন শব্দের কি অর্থ তা অনেকটা কনটেক্সট এর উপর নির্ভর করে।

আপনি যদি ডিকশনারিতে একটি শব্দের অর্থ দেখেন তবে আপনি শব্দটার কিছু কমন ব্যাবহার দেখতে পাবেন।

তবে একজন লেখক বা কবি ডিকশনারির অর্থ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। একটি শব্দকে ডিকশনারির অর্থের বাইরেও ব্যাবহার করতে পারেন তারা। অনেক সময় তারা নতুন শব্দ তৈরি করতে পারেন অথবা তারা একটি শব্দ কে নতুন ভাবে ব্যাবহার করতে পারেন যা আগে কেউ করেনি বা যা ডিকশনারিতে নেই।

জাকির নাইকের লেকচারে শুনেছিলাম যে আমেরিকায় পুলিশ কে পিগ বলা হয়। তাই সংজ্ঞা দিয়েই কোন কিছু প্রমাণ হয় না। কিন্তু তিনি সংজ্ঞা দিয়েই প্রমাণ করে দিলেন যে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব আছে এবং পৃথিবীর সর্ব প্রথম ধর্ম হল ইসলাম।

প্রথমে আল্লাহ্‌র অস্তিত্বে আসি। তিনি আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের প্রমাণ দিলেন এ ভাবেঃ

বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

তিনি বললেন যে কেউ যদি সুরা এখলাসের এই ৪ লাইন সংজ্ঞার সাথে মিলে যায় তবে তিনিই সৃষ্টিকর্তা।

এখন কথা হচ্ছে সংজ্ঞা দিয়ে কিছুই প্রমাণ হয় না। কারণ আমি যদি হাট্টি মাটিম টিম এর সংজ্ঞা দেই তার মানে কি হাট্টি মাটিম টিম এর অস্তিত্ব আছে? আপনি সুরা এখলাসের আল্লার জায়গায় হাট্টি মাটিম টিম বসান। একই ফল পাবেন।

যেমন – বলুন, তিনি হাট্টি মাটিম টিম এক ও অমুখাপেক্ষী তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন কি প্রমাণ হবে যে হাট্টি মাটিম টিম আসলেই আছে?

আরেকটা বিষয় হচ্ছে প্রায়ই এই যুক্তি টা শোনা যায় যে স্রষ্টা না থাকলে সৃষ্টি কোথা থেকে এলো?

এখন তিনি প্রকৃতিকেই স্রষ্টা নাম দিয়েছেন। আসলে তিনি যেটাকে সৃষ্টি বলছেন, সেটা আসলে কিছুই না, সেটা প্রাকৃতিক ভাবে আসা জগত মাত্র।

কিন্তু যে স্রষ্টার কথা ধর্ম গ্রন্থে আছে সে স্রষ্টা কোথায়? প্রকৃতি তো ভালো মন্দ, পাপ পুণ্য বোঝেনা। সে তাঁর নিজের গতিতে চলে।

আপনি সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ না দিয়েই কিভাবে বলছেন সব কিছু সৃষ্টি, এবং এগুলোর সৃষ্টিকর্তা আপনি যাকে বিশ্বাস করেন সে? যার অস্তিত্ব নেই সে তো কিছুই সৃষ্টি করতে পারেনা।

একটা উদাহরণ দেই। মনে করেন, আপনি দাবি করছেন আপনার বাসার সব ফুল দানিতে ফুল সাজিয়ে দেয় এক ফুল পরী। আর তাঁর প্রমাণ হল আপনার বাসায় ফুল দানিতে ফুল সাজানো আছে। এখন বলবেন ফুল পরী না থাকলে ফুল কে সাজাল?

এবার আসুন পৃথিবীর প্রথম ধর্ম ইসলাম। এ ব্যাপারে তাঁর প্রমাণ হল আবার সংজ্ঞা। তিনি ইসলামের সংজ্ঞা দিলেন যে নিজেকে আল্লাহ্‌র পথে সমর্পণ করে সেই মুসলিম। জিসাস একজন মুলস্লিম ছিলেন। আদম মুসলিম ছিলেন, তাই পৃথিবীর প্রথম ধর্ম ইসলাম।

যদিও এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং শুধু মাত্র সংজ্ঞা দিয়েই সত্যকে মেনুপুলেট করার চেস্টা। কারন জিসাস অথবা আদম, কারো অস্তিত্ব ইতিহাসবিদ গন এখনো পান নি।

ইতিহাসবিদ গন বলেন ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু হয় ৬১২ সালে, মোহাম্মাদের সাথে।

সংজ্ঞা দিয়ে যদি অস্তিত্ব প্রমান করতে হয় তো আমি সংজ্ঞা দিয়ে বলতে বলতে পারি যে পৃথিবীর একমাত্র ধর্ম হল হাগু ধর্ম। এটি শুধুমাত্র পৃথিবীর একমাত্র এবং সর্ব প্রথম ধর্ম নয়, এটি পৃথিবীর প্রতিটা হাগু কারী প্রাণীই ফলো করে।

53553167_10217841856147745_5673776352067584000_n

Leave a comment