জনপ্রিয়তার কুযুক্তি (Argument from popularity)

দাবীঃ ১. অমুক ধর্ম যদি সত্য নাই হয়ে থাকে, তাহলে ১৬০ কোটি মানুষ কেন এটা বিশ্বাস করে? আর কেনই বা দিন দিন বিশ্বাসীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

দাবিঃ ২. অমুক বিখ্যাত ব্যক্তি এটা বলেছে তাই এটাই সত্য।

অনেক সময় মুমিনরা দাবি করে যে অমুক বিশ্বাসটা সত্য কারণ পৃথিবীর ১৬০ কোটি মানুষ এটা বিশ্বাস করে। এবং দিন দিন বিশ্বাসীর সংখ্যা বাড়ছে। সারা পৃথিবীতে ১৬০ কোটি মানুষ অমুক জিনিষটা বিশ্বাস করে। পৃথিবীর ১৬০ কোটি মানুষ কি ভোদাই হতে পারে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো আসলে কুযুক্তি, যার নাম জনপ্রিয়তার কুযুক্তি (Argument from popularity)

কোন একটি বিষয় বা প্রস্তাব সত্য কি মিথ্যা, সেটা তার জনপ্রিয়তা থেকে, বা কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি এটা বিশ্বাস করে, বা কতজন লোক বিশ্বাস করে তার উপর নির্ভর করে না। উদাহরণ সরূপ বলা যায়, এক সময় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করত যে পৃথিবী সমতল, কিন্তু সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

অনেকে কাউন্টার আর্গুমেন্ট দেন যে বেশিরভাগ লোক যেটা বিশ্বাস করে সেটা যদি সত্য না হয় তো নির্বাচন কেন হয়? আসলে নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অংশ যেখানে কোন প্রার্থী বেশি জনপ্রিয় সেটাই নির্ণয় করা হয়। এটা দিয়ে কোন প্রার্থী ভালো সেটা নির্ণয় করা যায় না কারন জনপ্রিয় প্রার্থী ভালো হবে এমন কোন কথা নেই। তাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে, যেমন আমেরিকায়, জনগন সরাসরি সরকার নির্বাচন করে না।

এটাকে আবার এক্সপার্ট অপিনিয়ন বা সাইন্টিফিক কন্সেন্সাস এর সাথে এক করে ফেলবেন না। আপনি যদি একটি বিষয়ের উপর সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেন, বা অধিকাংশ বিজ্ঞানীরা কি মনে করে তাঁর একটি কন্সেন্সাস তৈরি করেন, তবে সেটা জনপ্রিয়তার কুযুক্তি (Argument from popularity) হবে না কারণ আপনি একটি বৈজ্ঞানিক কন্সেন্সাস নিচ্ছেন, যারা এক্সপার্ট এবং যারা সাধারণ মানুষ নয়।

আরও ব্যাপার হল আপনি যে জিনিষটা সত্য বলে ভাবছেন সেটা আপনার জীবনে কতোটা প্রভাব বিস্তার করে, সেটাও ভাবতে হবে, কারণ স্ট্রিং থিওরি বা বিগ ব্যাং ধিওরি তে বিশ্বাস আপনার জীবনে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করে না যেমন ধর্ম করে।

বিজ্ঞানের বিশ্বাস তথ্য প্রমাণের উপর নির্ভরশীল, এবং নতুন তথ্য প্রমাণ পাওয়ার সাথে সাথে তা পরিবর্তন হয়। এবং এটাই বিজ্ঞান। কোন বিশ্বাসই এবসুলুট বা চূড়ান্ত নয়।

53150420_10217840978165796_3747487398167052288_n

Leave a comment