একজন মডারেট মুসলমানের সাথে কথোপকথন

ডঃ জাকির সাহেব একজন এম বি বি এস ডক্টর। তিনি প্রায়ই আমাদের সাথে আড্ডা দেন আর সুযোগ পেলেই ইসলাম প্রচার করেন। তিনি নিজেও ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়েন এবং নিয়মিত কোরান তেলাওয়াত করেন আর অন্যদের ইসলামের পথে দাওয়াত করেন।

তো সেদিন চায়ের দোকানে আড্ডা হচ্ছিল ওনার সাথে। তিনি বললেন ইসলাম হল শান্তির ধর্ম আর সর্ব কালের মানুষের জন্য জীবন বিধান। একটা দেশ চালাতে যেমন সংবিধান লাগে, একজন মুমিনের জন্যও এটা সেই রকম একটা জীবন বিধান।

তিনি চা আর সিগারেট অর্ডার দিলেন তার পর বললেন।

আল্লাহ্‌ তায়লা সুরা আল ইমরান, চ্যাপ্টার নম্বর ৩, আয়াত নম্বর ১৯ বলেছেন – তিনি আরবিতে সুরা পড়া শুরু করলেন – ইন্নাদ দ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম – নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।

– এখন আপনার মত একজন নাস্তিক মরালীটি শিখবে কিভাবে? আপনাদের কাছে তো কোন গাইড লাইন নেই।

ডাক্তার সাহেব একটা সিগারেট ধরানোর বিরতি নিলেন। এই ফাকে আমি বললাম কোরানে তো বিধর্মীদের মেরে ফেলতে বলেছে।

শুনে ডাক্তার সাহেব বললেন এটা কোন আয়াত বলতে পারো? কোরানে কোথাও এমন কথা বলে নি যে বিধর্মী মেরে ফেল। এটা তোমার ভুল ধারনা।

আমি বললাম আপনি কি ওয়াজ শুনেন না?

তিনি বললেন, এই সব ওয়াজে সব অশিক্ষিত হুযুরেরা আসে, এরা শুধু টাকা কামানোর ধান্দায় আসে, মানুষের সেন্টিমেন্ট তৈরি করে আর নিজেদের মন মতো করে কোরান হাদিস তৈরি করে। ইসলাম একটা শান্তির ধর্ম বুঝলে, এখানে একটা প্রাণী ও নির্বিচারে হত্যার নিয়ম নাই।

পাশে বাবলু বদমাশ টা এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল। বদমাশ টা বলল – আর তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই…..

ডাক্তার সাহেব তাকে থামিয়ে দিয়ে বিরক্ত হয়ে বললেন কোরানে অনেক কিছু আছে যেগুলো যুদ্ধ কালীন আয়াত। এখন তোমাকে যদি শত্রুরা আক্রমণ করে তো তুমি কি বসে বসে ললিপপ চুষবে?

তিনি আবার শুরু করলেন, কোরানের প্রকৃত অর্থ বুঝতে হলে এর প্রেক্ষাপট জানতে হবে, আরবি জানতে হবে, তফসির জানতে হবে,
একজন এলেম এর কাছে পরামর্শ নিতে হবে …

আমি বললাম আমার আরবি জানতে হবে কেন? তাহলে যারা অনুবাদ করে, লাইভ ভিডিও করে, যারা ওয়েব সাইট চালায়, তারা কি কিছুই জানেনা? যারা ওয়াজ করে মহল্লাা মাতায় তারা কি কিছুই জানেনা? কিছু না জেনে না বুঝেই তারা মানুষদের বিভ্রান্ত করছে?

ডাক্তার সাহেব বললেন আজকাল ওয়েবসাইটে যে সব অনুবাদ পাওয়া যায় তা তো মানুষের করা, তাই সঠিক হবে না। আর কিছু সাইট ইহুদিরা চালায়, এটা ইহুদিদের ষড়যন্ত্র।

আমি বললাম তো আপনি সঠিক টা জানলেন কি ভাবে? আপনি কি আরবি জানেন? নাকি আপনি আরবির উপর বা ধর্মের উপর কোন ডিগ্রি নিয়েছেন যে আপনার ব্যাখ্যা টাই সঠিক বলে ধরে নেব?

আপনি বলছেন যারা ওয়াজ করে তারা ভুল ব্যাখ্যা করে, তো তখন কেন আপনারা প্রতিবাদ করেন না যে এটা সঠিক ইসলাম নয়? আপনারা কেন বাচ্চা মেয়েদের বিয়ে করা আর বহু বিবাহ সমর্থন করেন? দাসী প্রথা সমর্থন করেন? মেয়েদের চাকরি করতে দিতে চান না? শিক্ষা দিতে চান না?

তিনি বললেন আমি ইসলামের ভালো দিক গুলাই নেই। যারা এসব করে বা বলে তাদের সাথে আমি নেই, আমি এসবের ঘোর বিরোধী।

– আসলে ইসলাম অনেক রকম ভাগ হয়ে গেছে তো। সবাই ভুল করে, কেউ কেউ অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে পর্দা নিয়ে। আসলে পর্দা তো নারী পুরুষ উভয় কেই করতে বলা হয়েছে। এটা মনের পর্দা। একটা ছেলে যেমন মেয়েদের দিয়ে তাকাবে না, তেমনি মেয়েটাও তাকাবে না।

আমি বললাম – কেউ কারু দিকে না তাকালে ছেলে মেয়েদের বিয়ে হবে কিভাবে? – অথচ কোন হুজুর কে আপনি এই কথা বললে তারা খেপে যাবে। সুরা নিসায় নাকি আছে মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক। আর আপনি দুই, তিন বা চারটা বিয়ে করতে পারেন। এবং আপনার অধিকারভুক্ত দাসীদেরকেও …।

তিনি চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে হোঁচট খেলেন। মনে হল নাক দিয়ে খানিকটা চা ঢুকে গেছে। একটু কাশি দিলেন। তারপর কাপ নামিয়ে রাখতে রাখতে বললেন দেখুন, ৪ টা বিয়ে করা বা দাসীর সাথে সহবত করা তো ইসলামে ফরজ নয়।

আমি শুধু ধর্মের ভালো দিক গুলো ফলো করি।

আমি বললাম আপনি কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ তা বুঝেন কি করে? আপনি তো একটু আগেই বললেন কোরান ভালো মন্দের মান দণ্ড, তো কোরান থেকে ভালো মন্দ আপনি কিভাবে নিবেন? জিনিষটা সার্কুলার লজিক হয়ে গেল না?

তিনি বললেন আমার বিবেক যেটা ভালো বলে এবং যেটা সমাজে স্বীকৃত, যেটা দেশের আইনের পরিপন্থী নয়, সেটা মানতে তো কোন সমস্যা নেই?

আমি বললাম আমি তো সেটাই করি, কিন্তু ধর্মের ভয়ে বা পরকালে
হুরের লোভে না । আমি যেটা উচিৎ মনে হয় সেটা করি। আমার Moral Code এর জন্য কোন কিতাব দরকার হয় না।

এর মধ্যে বিকট শব্দে একটা উদ্ভট রিং টোন বেজে উঠল। বাব্লু বদমাশটা তার মোবাইল হাতে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে হেড ফোন কানে গুজতে গুজতে বলল “লং ডিস টেন্স এপিয়ার আচে।”

54433690_10217880837162246_2054408678743736320_n

Leave a comment