আগেও অনেক বার লজিকাল ফ্যালাসি নিয়ে লিখেছি। কিন্তু তার পরেও অনেকে সেগুলো বুঝেন নি বা পড়েন নি, এবং একই জিনিষ নিয়ে বার বার তর্ক করেন। আজ এমন কিছু কমন লজিকাল ফ্যালাসি নিয়ে লিখছি।
অমুক বিখ্যাত ব্যক্তি এই কথা বলেছে, তাই এটা সত্য – এরকম কথা প্রায়ই শোনা যায় তার্কিকদের কাছ থেকে। কিন্তু এটা একটা ফ্যালাসি। বিখ্যাত ব্যক্তি যে সব সময় সঠিক বলবেন তা কিন্তু নয়। তথ্য কে দিয়েছে বা কথাটি কে বলেছে সেটা বিবেচনা না করে যে তথ্য টি আপনি পেয়েছেন সেটার সত্যতা যাচাই করুন।
বিশেষজ্ঞের মতামত: (Expert Opinion)
আপনি যদি কোন বিশেষ ব্যক্তির মতামত তুলে ধরেন এবং সেই ব্যক্তি, ওই বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ হয়, তবে যেটা ফ্যালাসি নয়। যেমন বিবর্তনের উপর যদি রিচার্ড ডকিন্সের উক্তি কোট করেন তবে সেটা বিশেষজ্ঞের মতামত বলে ধরতে হবে। তবে এটা যে চিরন্তন সত্য হবে তা ও নয়।
তবে, একজন ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞের মতামত অবশ্যই একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
বৈজ্ঞানিক সমঝোতা একটি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের সমীক্ষা, যৌথ বিচার, অবস্থান এবং তাদের Expert Opinion বা বিশেষজ্ঞের মতামত। বিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখার বিজ্ঞানিরা যদি একটি বিষয়ে মতামত দেন এবং সমঝোতায় পৌঁছান, তবে এটি বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত বলে বিবেচিত হবে, এবং এটি কোন লজিকাল ফ্যালাসি নয়।
আমাদের বিশ্বাস জ্ঞান নির্ভর, এবং আমাদের হাতে যে তথ্য উপাত্ত থাকে, তার উপর ভিত্তি করেই আমাদের বিশ্বাস গড়ে উঠে।
এখন অনেকেই মনে করেন যে সঠিক তথ্য দিতে কি ডিগ্রি প্রয়োজন? না। একজন অশিক্ষিত মানুষ ও সঠিক কাজ বা সঠিক তথ্য দিতে পারে। যেমন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, এদের কোন ডিগ্রি ছিলনা, কিন্তু তাদের লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।
কিন্তু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞানীর মতবাদ তার ডিগ্রি দিয়ে নয়, বরং তার তথ্য গুলো যাচাই করে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে Peer Review প্রসেস এবং Independent Verification Process রয়েছে। একজন বিজ্ঞানীর কাজ আরেকজন পরীক্ষা করে। একই পরীক্ষা বিভিন্ন জন আলাদা ভাবে করে সিদ্ধান্তে আসে, এবং সেটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান হয়।
তবে প্রফেশনাল বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে, যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ইত্যাদি লোকের কাজ করতে হলে, এবং তাদের মতামত অফিশিয়ালি প্রদান করার জন্য অবশ্যই ডিগ্রি থাকতে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স থাকতে হবে।
বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী (Established Science and Personal Opinion of a Scientist)
একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত মতামত আর প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান (বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব) এক নয়। বিজ্ঞানের তত্ত্ব গুলি আসে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। এটা কোন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত মতামত নয়। একজন বিজ্ঞানী ধার্মিক হতে পারে, এবং পরকালে বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞান সেটা বিশ্বাস করে না, কারণ এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।
কোন একটি মতবাদ বা তথ্যের সত্যতা তার জনপ্রিয়তা বা পপুলারিটির উপর নির্ভর করেনা। সত্যতা শুধু মাত্র তথ্য এবং প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।
যদি দাবি করেন যে পৃথিবীর বেশির ভাগ লোক যেটা বিশ্বাস করে সেটা সত্য,হবে, তবে ভুল করবেন।
যেমন, এক সময় পৃথিবী সমতল ধরা হত, এবং পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের বিশ্বাস এটাই ছিল, কিন্তু পরে, নতুন তথ্য পাওয়ার পর প্রমাণিত হল যে এটা সত্য নয়।
সংখ্যা বেশি হলেই যে সঠিক, সেটা কিন্তু প্রমাণ হয় না। এটা একটা Logical Fallacy. Argument from Popularity Fallacy. পৃথিবী মূর্খের সংখ্যাই বেশি। জ্ঞানী লোকের সংখ্যা কম এবং কদর কম। পশু পাখি হাজার হাজার শিশু জন্ম দেয়। ভেড়ার পাল চিন্তা ভাবনা না করেই পালের গোদার পিছনে ছুটে।
আজকে আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। কারো কোন প্রশ্ন থাকলে বা এখনো যদি না বুঝে থাকেন, তবে কমেন্ট করুন।