কিছু দিন আগে রেডিওতে খবর শুনছিলাম. ব্যভিচার করার অপরাধে গ্রামে শালিস বসিয়ে, এক গৃহবধূকে শারিয়া আইন অনুযায়ী ১০০ ঘা দোররা মারা হয়, ফলে গৃহবধূ মারা যায়।
আবার ও প্রমাণিত হল ধর্মের কারণে আমরা কতোটা বর্বর জাতি হয়ে আছি। কোন মানুষের, কি অন্য মানুষের গায়ে হাত তোলার অধিকার আছে? সে যে ই হোক, অপরাধ যাই হোক, কোন মানুষ অন্য একটা মানুষ কে মারতে পারেনা। সভ্য সমাজে কেউ একটা চোরের গায়েও হাত দিতে পারেনা। অথচ আমাদের দেশে মেয়েরা প্রায়ই নির্যাতিত হয়। নারীরাই নিজেদের মনে করে পুরুষের নিচে। পুরুষ তাদের প্রতিপালক, অভিভাবক, তাই চাইলে স্বামী তাকে মারতে পারে।
আরব দেশ গুলোতে এই সমস্যা আরও বেশি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা নারীর সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। আরব দেশে মেয়েদের বস্তু হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। দাসী সেক্স যেহেতু ইসলামে বৈধ, তাই তাদের কোন প্রকার জবাব দীহি বা দেনমহর দিতে হয় না। এমন ও দেখা যায় যে মহিলা দিনে গৃহকর্মী কিন্তু রাতে পর্যায় ক্রমে তার কাছে বাবা ও তার ছেলেরা আসে।
ইসলাম নাকি নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। অথচ ইসলামিক আইন অনুযায়ী, একজন নারী উত্তরাধিকার সূত্রে পুরুষের অর্ধেক পাবে। একজন মুফতির বয়ানে শুনেছিলাম নারীদের বুদ্ধি নাকি পুরুষের অর্ধেক। আর নারীদের দেখাশোনার বা লালন পালনের দায়িত্ব পুরুষের।
তারা স্বামীর সম্পত্তি ও পায় আবার বাবার টাও পায় তাই তাদের উত্তরাধিকার দেওয়া হয় অর্ধেক। এখানে শুভঙ্করের ফাকিটা হল নারীর বিয়ে না হলে বা তালাক হয়ে গেলে সে আবার বাবার অর্ধেক সম্পত্তির উপর নির্ভর করে থাকবে ।
নারীকে যেহেতু চাকরি বা লেখাপড়া করতে দেওয়া হয় না, তাই তাদের আর কোন উপায় ও থাকেনা। আমাদের দেশে চাকরি করতে গেলেও মেয়েদের বিপদ। রাস্তা ঘাঁটে বিপদ, রিক্সায় বিপদ, এমন কি অফিসেও বিপদ। মেয়েরা ধর্ষিত হলেও দোষটা তাদের ঘাড়েই পড়ে। নারী কেন এমন জামা পরে, এত রাতে, বড়ি ফিরে? সে তো ধর্ষিত হবেই। আমি একটা ওয়াজে শুনেছি যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আর অফিসে যখন মেয়েরা যাচ্ছে, এগুল এখন জেনার কারখানা হয়ে গেছে।
ভারতে এখন ব্যাভিচার বা জেনা করলে কোন শাস্তি হবেনা। আর হুজুরেরা আবারো প্রতিবাদে ফেটে পড়ছে। এটা নাকি জেনা করার লাইসেন্স।
জোর করে তো আর ভালোবাসা হয় না। আপনি আপনার স্ত্রীকে জোর করে বেধে রাখতে পারবেন না, এটা বুঝতে হবে। আপনার স্ত্রী যদি আপনাকে ভালো না বাসে আর আপনার অজান্তে কারো সাথে কিছু করে, তার কি শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন? আপনি কি তার বিরুদ্ধে আইনের ব্যবস্থা নিতে পারবেন? ভারতের দণ্ড বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না অর্থাৎ, আপনি তাকে কোন শাস্তি দিতে পারবেন না। কিন্তু আপনি অবশ্যই তাকে ডিভোর্স দিতে পারেন।

