১১ টি মুমিনীয় কুযুক্তি!
১. অজ্ঞতা থেকে যুক্তি (Argument from Ignorance Fallacy)ঃ “যদি আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি না করে তবে কে করলো?” আসলে এটি একটি “অজ্ঞতা থেকে যুক্তি” কারন তার আর কোন বিকল্প উত্তর জানা নাই ।
এই ধরনের কুযুক্তি বা কুতর্কের উদ্রেক ঘটে মূর্খতা বা অজ্ঞতা থেকে। এই ধরনের তার্কিকরা দাবি করে যে তার ধারনা টি সত্য কারন এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়নি। তা ছাড়া তার ধারনা তার দাবিটা মিথ্যা প্রমান করতে হলে তার দাবির একটি বিকল্প সমাধান আমাকে দেখাতে হবে, তা না হলে তার টাই সত্য। সমস্যা হচ্ছে প্রতিটি দাবিই সত্য বলে প্রমান করার দায়িত্ব দাবি কারির নিজের । অন্য দের সেটা মিথ্যা প্রমান করার আগে সেটা তাকেই সত্য বলে প্রমান করতে হবে, নাহলে সেটা গ্রহনযোগ্য হবেনা।
এই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা আমার জানা নাই, আমাদের হাতে সিধান্তে পৌছার জন্য অপর্যাপ্ত তথ্য আছে। আমরা জানিনা দেখেই যে তার উত্তর টাই সত্য হবে, তা কিন্তু নয়। কিন্তু আপনার আল্লাহ যে এটার স্রষ্টা, তা আপনি প্রমান করতে পারেন নি। আপনি বিকল্প হিসাবে ভাবতে পারেন প্রকৃতি কোন না কোন রুপে সব সময়েই বিদ্যমান ছিল।
২ প্রশ্ন ভিক্ষা কুতর্ক (begging the question)ঃ “প্রকৃতি কে সৃষ্টি করলো?” এখানে প্রশ্নকর্তা আগেই প্রশ্নের উত্তর হিসাবে আল্লাহ কে ধরে প্রশ্ন করছেন। অর্থাৎ তার “কে সৃষ্টি করলো?” প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর লুকিয়ে আছে, এই “কে” হল আল্লাহ। কিন্তু এই “কে” প্রশ্নের আগে আপনাকে প্রমান করতে হবে যে এটা কেউ একজন করেছে, না হলে এটা “প্রশ্ন ভিক্ষা” হবে।
৩. কর্তৃত্ব থেকে কুযুক্তি (argument from authority fallacy )ঃ মুমিনরা প্রায়ই কিছু উক্তি দিয়ে থাকেন যেমন ব্যাকেন বলেছেন “বিজ্ঞানের অল্প জ্ঞান আপনাকে কাফের বানাবে, আর বিজ্ঞানের গভীর জ্ঞান আপনাকে ধার্মিক বানাবে” অথবা আইন্সটাইন “বলেছেন ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ” এখানে মনে রাখতে হবে যে কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি একটি উক্তি দিলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না। কোন একজন বিশেষজ্ঞের মতামত সত্য হবে তার কথার যোগ্যতার উপর, এবং সত্য কথা সত্য আর মিথ্যা কথা মিথ্যা সেটা যেই বলুক না কেন। একজন দার্শনিকের বিজ্ঞানের উপর মতামত বা একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানির ধর্ম বিষয়ে মতামত “কর্তৃত্ব থেকে কুযুক্তি” হবে। আমরা সবাই জানি যে ব্যাকেন বিজ্ঞানি ছিল না দার্শনিক ছিল আর আইন্সটাইন ধার্মিক ছিলেন না।
৪. মিথ্যা দ্বিমাত্রিকতা (false dichotomy)ঃ “আপনি যদি আল্লাহ আছে বিশ্বাস না করেন তবে আপনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ নাই” – এটা একটি মিথ্যা দ্বিমাত্রিকতা। সত্য দ্বিমাত্রিকতা হচ্ছে আমি আল্লাহ আছে বিশ্বাস করিনা অথবা করি। আল্লাহ আছে বিশ্বাস না করার বিপরীতে আল্লাহ নাই বিশ্বাস করা নয়, আল্লাহ আছে বিশ্বাস করার বিপরীতে হল আল্লাহ আছে বিশ্বাস না করা। অনেকেই বলেন আপনি আপনার বিশ্বাস আপনার কাছেই রাখুন, কিন্তু আমার আল্লাহ্র বিষয়ে কোন বিশ্বাস নাই। যারা আল্লাহ আছে বিশ্বাস করে, অথবা নাই বিশ্বাস করে, তাদের আছে।
৫. একটি ঘটনার ফলে আরেকটি ঘটনা (Post-hoc ergo propter hoc)ঃ এটি ঘটে যখন আপনি দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে একটি আরেকটির কারন হিসাবে উল্লেখ করেন, যেমন গাছে একটি পাখি বসল আর আপনার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। যেটা সহজ বাংলায় ঝড়ে বক মরে।
৬. চূড়ান্ত ফলাফল কুযুক্তি (Argument from final Consequences)ঃ যদি কোন একটি যুক্তির ফলাফল আপনার মূল বিশ্বাসের বিপরীতে যায় তবে আপনি যুক্তিটি মানবেন না, যেমন বিবর্তনবাদের স্বপক্ষে আপনাকে যত যুক্তি প্রমান ই দেওয়া হোক আপনি তা মানবেন না কারন তাহলে আদম হাওয়ার থিওরি মিথ্যা হয়ে যায়।
৭. কালো রাজহাঁসস কুযুক্তি (Black Swan Fallacy)ঃ মুমিনরা প্রায়ই প্রশ্ন করেন “আপনি কি কোন কিছু নিজে থেকে সৃষ্টি হতে দেখেছেন?” এটা হল কালো রাজহাঁসস কুযুক্তি। যেহেতু আপনি জীবনে যতগুলি রাজহাঁস দেখেছেন সবই সাদা তাই আপনার দৃঢ় বিশ্বাস যে কালো রাজহাঁস থাকতে পারেনা। অথচ প্রকৃতিতে অনেক কিছুই কোয়ান্টাম লেভেলে নিজে থেকে উৎপন্ন হয় যার খবর আপনি জানেন না।বিজ্ঞান কিন্তু প্রকৃতির বাইরে কিছু নাই তা দাবি করেনা, কিন্তু আমরা তার অনুসন্ধান করতে পারিনা তাই কিছু (ধর্মের মত বানিয়ে বানিয়ে) বলতেও পারিনা।
৮. বিশেষ অনুনয়কারী (Special Pleading Fallacy)ঃ আপনার যুক্তি সব ক্ষেত্রে চলবে শুধু আল্লাহ ক্ষেত্রে চলবে না, যেমন সব কিছুরই শ্রষ্টা আছে শুধু আল্লাহ্র নাই।
৯. অব্যর্থসন্ধানী (Sharpshooter Fallacy)ঃ আপনার যেটা পছন্দ সেটা সঠিক আর যেটা পছন্দ না সেটা ভুল, যেমন (দাবিকৃত)জাল হাদিস সমূহ !!
১০. জনপ্রিয়তা থেকে সত্যতা কুযুক্তি (Argumentum ad populum) ঃ “পৃথিবীর অধিকাংশ লোক (১.৮ বিলিয়ন) ইসলামে বিশ্বাসি তাই এটাই একমাত্র সত্য ধর্ম” – বেশিরভাগ লোক যেটা বিশ্বাস করে সেটাই সত্য হয়ে যায় না। বিজ্ঞানের বিশ্বাস গুলো প্রমাণিত এবং মূলধারার বিজ্ঞানীদের দ্বারা স্বীকৃত।
১১. নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত ভ্রান্ত ধারণা (Confirmation Bias Fallacy)ঃ বেশির ভাগ মুমিনরাই এইভ্রান্ত ধারণায় দুষ্ট। তাঁরা আগে বিশ্বাস করেন, জন্ম সুত্রে, এবং পরে তাদের বিশ্বাস কে প্রতিষ্ঠিত করেন। আপনারা সেই যুক্তি এবং অনুসন্ধান কে মানেন যেটা আপনার বিশ্বাস কে সমর্থন করে।কিন্তু হওয়া উচিৎ ঠিক তার উলটোটা । আপনি আগে অনুসন্ধান করুন, তথ্য সংগ্রহ করুন, পরে বিশ্বাস করুন, তাহলে পক্ষপাতদুষ্ট ভ্রান্ত ধারণামুক্ত থাকতে পারবেন।


Pingback: Argument from Authority Fallacy বা কর্তৃত্ব থেকে কুযুক্তি | সত্যের পুজারি