কোরআন কে লিখেছিল?

অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন টা করেছেন যে কোরান যদি আল্লাহ্‌র বানী না হয় তো কোরান কে লিখেছে? আসলে কোরানে যা আছে তা নিরক্ষর মহাম্মাদের পক্ষে লেখা সম্ভব নয় – একথা আমিও স্বীকার করি।

কোরান মহাম্মদ একা লেখেন নি, তাঁর সাথে অনেকেই জড়িত ছিল, যারা কোরানের তথ্য গুলি সংগ্রহ করেছিল এবং সংকলন ও কোরান রচনা করেছিলেন। এর মধ্যে তৎকালীন কবি, বিজ্ঞানি, এবং স্কলার রাও জড়িত ছিল। অনেক তথ্যই বাইবেল, তওরাত, পেগান ধর্ম, এবং পূর্ববর্তী ধর্ম ও ধর্ম গ্রন্থ গুলি থেকে এসেছে। এর মধ্যে গ্রিক পুরান এবং ফিলসফি উল্লেখ যোগ্য। আমার মতে কোরান যে আল্লাহ্‌র বানী এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, যে মিথ্যা টা আমরা হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বাস করে আসছি।

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ কেন ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন?

আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ খলিফা উসমানের সৎ ভাই ছিলেন। তিনি একসময় বিশ্বাস করতেন যে মোহাম্মাদ হচ্ছেন আল্লাহ্‌র প্রেরিত রসুল। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং, মক্কা ত্যাগ করে মদিনা চলে যান, কারন তিনি

মুহাম্মাদের সাথে থাকতে চেয়েছিলেন। মোহাম্মদ তাকে কোরান লেখক হিসাবে নিয়োগ করেন কারন তিনি শিক্ষিত ছিলেন।

কিছুদিনের মধ্যেই ইবনে আবু সারহ মুহাম্মাদের আচরণে এবং তার কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট হতে থাকেন এবং তার  নবুয়ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা শুরু করেন। একদিন মোহাম্মাদ তাকে নিয়ে সুরা আল-মুমিনুনের [২৩] ১৪ নং আয়াত টি লিখতে শুরু করেন।

তিনি আয়াত গুলো বলতে থাকেন এবং ইবনে আবু সারহ কে লিখতে বলেন। আয়াত গুলো নিম্ন্রুপ ছিলঃ

এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি,
এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি,
অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি।

এই পর্যন্ত বলার পর মোহাম্মাদ থামলেন, এবং মনে হল আল্লাহ আয়াত নাজিল করা বন্ধ করে দিয়েছিন। এর পর বিন সারহ বললেন – নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়?

এটা শুনে মোহাম্মাদের পছন্দ হল  এবং এটা বাকি আয়াত গুলোর সাথে ছন্দেও মিলে গেল। তিনি বললেন – এটাও লিখে ফেল। এটা এভাবেই আমার কাছে নাজিল হয়েছিল।

এই সময় আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সারহ পুরোপুরি নিশ্চিত হলেন যে কোরান আল্লাহ্‌র বানী নয় এবং মোহাম্মাদ নিজে থেকেই আয়াত গুলো তৈরি করছেন। মোহাম্মদ একজন ভণ্ড ছাড়া কিছুই নয় ।

এর পর আবু সারহ মোহাম্মাদ কে ত্যাগ করে মক্কায় ফেরত গেলেন। এর পর তিনি কোরায়েশদের সব বলে দিলেন যে আমি মোহাম্মাদ কে যেভাবে বলছি কোরান সেভাবেই লেখা হচ্ছে। এতে শুধু ওহি বানী নয়, আমার বানীও আছে। এতে

কোরায়েশগণ মোহাম্মাদকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে। মোহাম্মদ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবু সারহ কে হত্যা করার জন্য উদ্যত হন।

মক্কা বিজয়ের দিন আবু সারহ ইসলামে ফিরে আসে। খলিফা উসমান তার জীবন ভিক্ষা চান, এবং মোহাম্মাদ তাকে ক্ষমা করে দেন।

কোরান লেখার নেপথ্যে যাদের প্রভাব এবং অনুপ্রেরণা ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল:

১. ইমরুল কিয়েস – আরবের একটি প্রাচীন কবি যিনি মুহাম্মদের জন্মের কয়েক দশক আগে মারা যান
২. জায়েদ বিঃ আমর বিঃ নওফেল- একজন ‘ধর্মত্যাগী’ যিনি হানিফিজমের প্রচার ও প্রচার করেছিলেন
৩. ল্যাবিদ- আরেকজন কবি।
৪. হাসান বিঃ তাবিদ – মুহাম্মদ এর অফিসিয়াল কবি।
৫. সালমান – একজন ফার্সি- যিনি মুহাম্মদ এর ডান হাত এবং একজন উপদেষ্টা ।
৬. বহিরা – সিরিয়ার গির্জার একজন নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টান সন্ন্যাসী।
৭. জাবের – মুহাম্মদ এর একজন খ্রিস্টান প্রতিবেশী ।
৮. ইবনে কুমতা – একজন খৃস্টান ক্রীতদাস।
৯. খাদিজা- মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী (তিনি মুহাম্মদকে নবী হওয়ার পরামর্শ দেন)
১০. ওয়ারাকা – খাদিয়াদের চাচাত ভাই
১১. উবে বি কা’ব- মুহম্মদের সেক্রেটারি এবং একজন কোরান লেখক।
১২. আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবু সারহ – ছিলেন খলিফা উসমানের পালিত ভাই এবং মহাম্মদের কোরান লেখক, যিনি মহাম্মাদের ভণ্ডামি দেখে ইসলাম ত্যাগ করেন।
১৩. আয়েশা – মুহাম্মদ এর শিশু স্ত্রী ।
১৪. আবদুল্লাহ্ সালাম বিঃ আল হরিত -একজন ইসলামে রূপান্তরিত ইহুদি
১৫. মুফিয়ারিক – একজন রাব্বী এবং ইহুদী যিনি ইসলামকে রূপান্তরিত হন।
১৬. মুহাম্মদ নিজে !!!

সূত্রঃ Who Authored the Qur’an?—an Enquiry

hqdefault

Leave a comment