১০ টি কমন আস্তিকিয় প্রশ্নের নাস্তিকিয় উত্তর (পর্ব – ১)

অনেক আস্তিক ভাইয়েরা আমাকে প্রশ্ন করেন আমি কেন নাস্তিক? বা নাস্তিকতা কাকে বলে? আমি যে একজন নাস্তিক এটা অনেকে কল্পনাই করতে পারেনা। তারা মনে করে আমি আসলে নাস্তিক নই, কুসংসর্গে পড়ে অথবা কোন দুর্ঘটনার কারণে নাস্তিক হয়ে গেছি। এবং তারা প্রায়ই আমাকে আস্তিক বানানোর চেষ্টা করে কিছু প্রশ্ন করে, যা নিতান্তই হাস্যকর। তাদের এমন একটা ধারনা যে প্রশ্ন করে করে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন। আমি বেশিরভাগ সময়ই প্রশ্ন গুল এড়িয়ে যাই কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রস্ন গুল খুব সিলি, এবং একটু গুগলে সার্চ করলেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। আর উত্তর দিলেই শুরু হয় তেনা প্যাঁচানো আর মেনশন করা ।

18485806_221075041716469_8494314561602473186_nঅনেকর ধারনা নাস্তিকতা একটি মতবাদ। তাদের মতে নাস্তিক মানেই নীতি বিবর্জিত, উশৃঙ্খল কিছু মানুষ, যাদের কাজ হচ্ছে গণ্ডগোল পাকানো আর পাপ করা। তাদের কোরান হাদিসের জ্ঞান নেই, আর কোরান না পড়ে তারা ন্যায় নীতি জানবেই বা কি করে? আবার কিছু লোক লোক মনে করে নাস্তিক মানে জ্ঞানী।

কিন্তু আসলে নাস্তিকতার সাথে জ্ঞান বিজ্ঞান, ন্যায় নীতি, পাপ পুণ্য, এর কোনটারই কোন সম্পর্ক নেই। নাস্তিকতা কোন ধর্ম নয়, মতবাদ নয় বা ধর্মের বিরোধিতা নয়, নাস্তিক মানে শুধু সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাস। আর বাকি সব কিছু অন্য কিছু। তাই দেখা যায় নামাজ পড়ে মাথায় ঠোসা বানিয়েছেন এমন লোককেও মিথ্যা বলতে। দাড়িওয়ালা, টুপি ওয়ালারাই বাটপারি করে বেশি। আর জ্ঞানীদের মধ্যে রিচার্ড ডকিন্স আর লরেন্স ক্রাউসের মত নাস্তিক বিজ্ঞানীরা যেমন আছেন, তেমনি নিউটনের মত আস্তিক বিজ্ঞানীও আছেন। আসলে যে ভালো আর জ্ঞানী, তাঁর জন্য ধর্মের প্রয়োজন হয়না আর যে খারাপ তাঁকে ধর্ম ভালো করতে পারেনা।

প্রকৃত পক্ষে আমরা কিন্তু আস্তিকদেরই বেশি গণ্ডগোল পাকাতে দেখি। যুক্তিতে হেরে গিয়ে তারাই বেশি গালিগালাজ করে আর হুমকি দেয়। আর অনেক নাস্তিকই আস্তিকদের চেয়ে বেশি কোরান হাদিস পড়েছে। আমি আমার কথায় আসি, আমি কেন নাস্তিক হলাম? আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে, এবং আমি ধর্মের সব শিক্ষাই পেয়েছি, কিন্তু আমার মধ্যে এক সময়ে প্রশ্ন জাগে। যে পুরুষকে আমরা সব মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং আদর্শ পুরুষ হিসাবে জানতাম, তাঁর চরিত্র আমাদের জন্য কতখানি আদর্শ হতে পারে? কোরান কি আসলেই নির্ভুল? আমি কেন নির্দ্বিধায়, প্রশ্নাতীত ভাবে কোরান বিশ্বাস করবো? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আজ আমি নাস্তিক।

আসলে আমি জানতে চেয়েছিলাম আমি ছোটবেলা থেকে যা অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এসেছি তা কতোখানি সত্য আর যুক্তিসঙ্গত? উত্তর খুজতে গিয়ে দেখলাম সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয় কারণ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়নি। অনেকে বলেন যে সৃষ্টিকর্তা নাই এটাও তো প্রমাণিত হয়নি। তাদেরকে আমি বলি কোন কিছু বিশ্বাস করার সময় হয় যখন সেটা আছে প্রমাণিত হয় তার পর। যদি নাই প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি আছে বিশ্বাস করেন তবে সেটা হবে একটি logical fallacy (logical fallacy নিয়ে পরে আরও বিস্তারিত লিখবো)

আমি এবার কিছু আস্তিকের কমন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিচ্ছি এই পোষ্টে। প্রশ্ন গুল সিলি হলেও বার বার এ গুলর সম্মুখীন হতে হয়, হয়তো আপনিই কোন এক সময়ে আমাকে এই প্রশ্ন গুল করেছেন, দেখেন কমন পড়ে কিনা?

প্রশ্ন ১ঃ নাস্তিকরা কেন আস্তিকীয় নাম ব্যবহার করে?

উত্তরঃ আস্তিকদের ১টি প্রচলিত প্রশ্ন হচ্ছে “আপনি তো এখন আর মুসলিম নেই তাহলে কেন এখনও মুসলিম নাম চেঞ্জ করছেন না ?” নাম কি আসলে ধর্মের না ভাষার? আসলে ইসলামিক নাম বলে কিছু নেই, আছে এরাবিক নাম। আরব দেশে ঐ সময়ে যে সব নাম প্রচলিত ছিল তাকেই আপনারা ইসলামিক নাম বলছেন। আরব দেশে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সাথে সাথে তাঁর নাম পরিবর্তন করতে দেখা যায়নি। নবীজির পিতার মান ছিল আব্দুল্লাহ (আল্লাহ্‌র গোলাম) যিনি নবীজির জন্মেরও আগে পৌত্তলিক হিসেবেই মারা যান। নাম পরিবর্তন করলে আরও সমস্যা আছে। আমার নাম আমার দাদা রেখেছিলেন। আমাকে আমার আত্মীয় স্বজন সবাই এই নামেই চিনে। আমার ভোটার আইডি, ফেসবুক আইডি, পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট, সবই এই নামে। এখন নাম পরিবর্তন করতে গিয়ে আমি কেন এত ঝামেলায় যাব?

রেফারেন্স:
১. ইসলামিক নাম বলে কিছু নেই, আছে এরাবিক নাম
Picture Credit: Nil NImo

Leave a comment